রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৫:৫৪:৪৪ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •       • কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি টুটুল গ্রেপ্তার •       • মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী •       • বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন •       • মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার •       • মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •       • মুরাদনগরে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হোসেন গ্রেফতার •       • আল্লামা হাশেমী শিক্ষা বৃত্তি অর্জন: একই মঞ্চে বাবার গৌরব ও মেয়ের জোড়া সাফল্য •       • চুনারুঘাটে অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন: চালক আটক, ১ লাখ টাকা জরিমানা •

পানির সংকটে পাহাড়ি জনপদ, শুকিয়ে মরছে ছড়া

পানির সংকটে পাহাড়ি জনপদ, শুকিয়ে মরছে ছড়া

নেত্রকোনা প্রতিনিধি:-

 

নেত্রকোনার কলমাকান্দার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে ভয়াবহ পানি সংকটে ভুগছেন হাজারো মানুষ। শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই শুরু হয়েছে বিশুদ্ধ পানির জন্য সংগ্রাম। পাহাড়ি ছড়াগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় শিশু থেকে বৃদ্ধ—সবাইকে মাইলের পর মাইল হাঁটতে হচ্ছে পানির সন্ধানে।

 

চন্দ্রডিঙা গ্রামের ছয় বছরের শিশু জান্নাতুল ফেরদৌস প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে পানি সংগ্রহে আসে। সকাল-বিকেল দুইবার তাকে যেতে হয় পাহাড়ি ছড়ার পাশে খোঁড়া কুয়া থেকে পানি আনতে। কারণ, সরকারিভাবে স্থাপিত গভীর নলকূপগুলোর পানি আয়রনযুক্ত, যা পান উপযোগী নয়। বাধ্য হয়েই স্থানীয়রা ছড়া, খাল বা কুয়ার পানির ওপর নির্ভর করছেন।

 

উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, কলমাকান্দার সীমান্তবর্তী রংছাতি, খারনৈ ও লেংগুরা ইউনিয়নের প্রায় ৩৫টি গ্রামে ১৮ হাজারের বেশি মানুষ বিশুদ্ধ পানির অভাবে কষ্ট পাচ্ছেন। এখানকার গারো, হাজং ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা পাহাড়ি ছড়ার পানির ওপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে ছড়াগুলো শুকিয়ে গেলে গভীর নলকূপই একমাত্র ভরসা। কিন্তু ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে অতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতি মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

 

চন্দ্রডিঙা গ্রামের গৃহিণী রীতা মারাক বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। আগে গভীর নলকূপের পানি আনতাম, কিন্তু এখন সেখানে প্রচুর আয়রন। বাধ্য হয়ে নালার পানি খাই। শুকনো মৌসুমে পানি পেতে অনেক কষ্ট হয়।’
 

লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া জানান, কাঁঠালবাড়ী, গোপালবাড়ী ও ফুলবাড়ীসহ বেশ কিছু গ্রামে বিশুদ্ধ পানির সংকট চরমে পৌঁছেছে। তাঁর ভাষায়, ‘বিগত সরকারের আমলে সীমান্ত এলাকায় গভীর নলকূপ বসানোর সময় ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে, যার ফলে মানুষ এখনও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত।’

 

কলমাকান্দা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় পাথরের স্তর থাকায় গভীর নলকূপ বসানো কঠিন। তারপরও কয়েকটি গভীর কূপ স্থাপন করা হয়েছে। তবে ভূগর্ভস্থ স্তরে সমস্যা থাকায় এসব কূপের পানিতে আয়রনের মাত্রা বেশি।’
 

নেত্রকোনা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান জানান, ‘কলমাকান্দার সীমান্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।’