সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৬:০০:২২ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

গর্ভে থাকা সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না

গর্ভে থাকা সন্তান ছেলে না মেয়ে তা প্রকাশ করা যাবে না

গর্ভে থাকা সন্তানের লিঙ্গ (ছেলে না মেয়ে) নির্ধারণ ও তা প্রকাশের অনৈতিক চর্চা বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট। নারীর অধিকার ও সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যে অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বা তা প্রকাশ না করার আদেশের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। 

 

বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি এ রায় ঘোষণা করেন। পরে সোমবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ এ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

 

রায়ে বলা হয়, অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ বা তা প্রকাশ করা নারীর প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে এবং কন্যাশিশুর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও সামাজিক ভারসাম্যহীনতা বাড়ায়। এটি সংবিধান স্বীকৃত সমতা, মর্যাদা ও জীবনের অধিকারের পরিপন্থি বলেও আদালত মন্তব্য করেন।

 

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এই বিষয়ে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা ছিল না। শুধু নীতিমালা তৈরি করলেই হবে না, বরং বাস্তবায়ন, ডিজিটাল নজরদারি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

 

রায়ে আরও বলা হয়, নিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রূণসংক্রান্ত পরীক্ষার তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করতে হবে এবং তা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হবে।

হাইকোর্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ছয় মাসের মধ্যে এ ডাটাবেজ চালুর নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশের মাধ্যমে কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে বৈষম্য ও সম্ভাব্য ভ্রূণ হত্যার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সংবিধানের একাধিক অনুচ্ছেদের পরিপন্থি।

এ রায়কে আদালত “কনটিনিউয়াস ম্যানডামাস” হিসেবে ঘোষণা করেছেন, যাতে ভবিষ্যতেও এর বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকির আওতায় থাকে।

 

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৬ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এই বিষয়ে রিট আবেদন করেন। পরে শুনানি শেষে আদালত এ নির্দেশনা দেন।