সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৫:০২:১৩ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •       • নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •       • কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি টুটুল গ্রেপ্তার •       • মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী •       • বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন •       • মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার •       • মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •       • মুরাদনগরে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হোসেন গ্রেফতার •       • আল্লামা হাশেমী শিক্ষা বৃত্তি অর্জন: একই মঞ্চে বাবার গৌরব ও মেয়ের জোড়া সাফল্য •

লঞ্চ ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

লঞ্চ ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি:-

 

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি লঞ্চ ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিতে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
 

ঘটনাটি ঘটে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে। আহতদের মধ্যে লায়লা বেগম (৩০), কামরুল ইসলাম (৩০), আকলিমা বেগম (২৫) ও নাফিসা বেগম (২৮) রয়েছেন। বিশেষত লায়লা বেগমের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে পাঠানো হয়েছে। বাকি আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। তাদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।
 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
 

সংঘর্ষের পেছনের ঘটনা.....
সূত্র জানায়, তমরদ্দি লঞ্চ ঘাটের ইজারাদার ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মাওলা কাজল। তবে ৫ আগস্টের পর তিনি ঘাট থেকে সরে যান। পরে স্থানীয় আলমগীর নামে একজন তাঁর সঙ্গে সমঝোতা করে ঘাটের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন।

 

কিন্তু তমরদ্দি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তানভীর হায়দার এই নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে পারেননি এবং দীর্ঘদিন ধরে ঘাট দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে তানভীর হায়দারের অনুসারীরা লঞ্চ ঘাটের দখল নিতে গেলে সেখানে অবস্থানরত আলমগীরের লোকজন তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়, যেখানে শ্রমিকদের পরিবারের নারী-পুরুষও জড়িয়ে পড়েন।
 

সংবাদ পেয়ে উপজেলা সদর থেকে পুলিশ, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সদস্যরা লঞ্চ ঘাটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
 

দুই পক্ষের বক্তব্য.....
বিএনপি নেতা আলমগীর দাবি করেন, ঘাটের সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। তবে তিনি জানান, প্রতিদিন ঘাট থেকে উপার্জিত অর্থের ৪০ শতাংশ ইজারাদার গোলাম মাওলা কাজল নিয়ে যান এবং তিনি কেবল শ্রমিকদের দেখভাল করেন।

 

অন্যদিকে, প্রতিপক্ষ তানভীর হায়দার অভিযোগ করেন, আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে সমঝোতা করে ঘাটটি ভোগদখল করে আসছেন। তবে ঘাট দখলের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
 

প্রশাসনের বক্তব্য....
হাতিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খোরশেদ আলম জানান, তমরদ্দি লঞ্চ ঘাটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তানভীর ও আলমগীর গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়, যাতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ ও নৌবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।