রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৪:২৬:১৬ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• বাঙ্গরা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত: পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার আহ্বান •       • কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০, ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত •       • অভিযানেও থামছে না অবৈধ অটোরিকশা, ডাম্পিং এড়াতে আরও বেপরোয়া চালকরা •       • মুরাদনগরে ২৮ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার •       • অর্থাভাবে থমকে থাকা চোখে আলোর পরশ: মুরাদনগরে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৩০০ মানুষ •       • মুরাদনগর উপজেলার ১৫ নং পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন-নবীনদের পছন্দের শীর্ষে ফারুক আহম্মেদ বাদশা •       • কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •       • জীবনের পরম তৃপ্তি ও এক অদ্ভুত বাস্তবতা: নাজমুল হাসান সরকার সহকারী সচিব •       • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •

ব্রহ্মপুত্র ভাঙনে নিঃস্ব কুড়িগ্রামের শত শত পরিবার

ব্রহ্মপুত্র ভাঙনে নিঃস্ব কুড়িগ্রামের শত শত পরিবার

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-

 

‎কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভয়াবহ ভাঙনে প্রতিদিনই নিঃস্ব হচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ। গত এক মাসে যাত্রাপুরের বানিয়াপাড়া, ফান্দের চর, শালমারা, নুচনি, খেতাবখাসহ কয়োকটি গ্রামের প্রায় তিন শত পরিবারের বাড়িঘরসহ হাজার হাজার ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। ভাঙনকবলিতরা কেউ আশ্রয় নিয়েছেন আত্মীয়ের বাড়িতে, আবার কেউ বাইরে চলে গেছেন। ‎নদের তীব্র স্রোতে প্রতি মুহূর্তে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি ও আবাদি জমি।
 

‎সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো নিজেদের ঘরবাড়ি সরাচ্ছেন। নদীর তীর থেকে গরু-ছাগল, আসবাবপত্র, বাঁশের বেড়া সবকিছুই যেন ছিন্নমূল মানুষের মতো দিকহারা হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে।
 

নদী ভাঙনের শিকার কৃষক আমজাদ আলী (৭০) বলেন, এ পর্যন্ত আমার বাড়িঘর পাঁচ বার নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে। এখন আবারও বাড়ি ভাঙল। কোথায় যাব চিন্তায় আছি।
 

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম (৫০), আব্দুল জলিল (৬০) ও আসাদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, সরকার হামার দেখি দেখে না। নদীর ভাঙনে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। এবার বাড়িঘর ভাঙলে নিঃস্ব হয়ে যাবে।

‎
‎স্থানীয় চরভিত্তিক গবেষণা ও অধিকার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম জাস্টিস ফর চর’স অ্যান্ড লোকাল রিসার্চের পরিচালক স্বপন কুমার সরকার বলেন, কুড়িগ্রামের মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্ভোগ নদী ভাঙন। প্রতিবছর শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ছে। কৃষিজমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এটি কেবল কুড়িগ্রামের নয়, এটি জাতীয় সমস্যা। সরকারকে দ্রুত স্থায়ী তীররক্ষা প্রকল্প হাতে নিতে হবে। একইসাথে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি তুলে ধরা জরুরি। যাতে বিশ্বনেতারা চরের মানুষের পাশে দাঁড়ান।

 

‎যাত্রাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (প্যানেল) চেয়ারম্যান রহিমুদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না গেলে কুড়িগ্রামের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপুর হাটসহ পুরো গ্রাম ভাঙনের হুমকিতে পড়বে।
 

কুড়িগ্রাম জেলা খামারবাড়ির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নদীর ভাঙনে কুড়িগ্রামে হাজার হাজার ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এতে কৃষকদের জীবন জীবিকা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তাও প্রয়োজন।

‎
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।