রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০২:১০:৫২ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• বাঙ্গরা উপজেলা প্রেসক্লাবের প্রথম মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত: পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠার আহ্বান •       • কক্সবাজারে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০, ছয়জনের পরিচয় শনাক্ত •       • অভিযানেও থামছে না অবৈধ অটোরিকশা, ডাম্পিং এড়াতে আরও বেপরোয়া চালকরা •       • মুরাদনগরে ২৮ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার •       • অর্থাভাবে থমকে থাকা চোখে আলোর পরশ: মুরাদনগরে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন ৩০০ মানুষ •       • মুরাদনগর উপজেলার ১৫ নং পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন-নবীনদের পছন্দের শীর্ষে ফারুক আহম্মেদ বাদশা •       • কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •       • জীবনের পরম তৃপ্তি ও এক অদ্ভুত বাস্তবতা: নাজমুল হাসান সরকার সহকারী সচিব •       • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •

জীবনের শেষ প্রান্তে নিঃসঙ্গ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া

জীবনের শেষ প্রান্তে নিঃসঙ্গ ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া

ঢাকা প্রেস-নিউজ ডেস্ক:-


 

কুমিল্লার মুরাদনগরের কৃতি সন্তান, সাবেক গণপূর্তমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ছিলেন এক সময় বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তার পদচারণায় মুখরিত হতো রাজপথ। ১৯৯১ সালে তিনি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান এবং ১৯৯৬ সালে শিক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দৃঢ় নেতৃত্ব তাকে দলের ভেতরে-বাইরে বিশেষ মর্যাদায় আসীন করেছিল।
 

কিন্তু সময় বদলেছে। ক্ষমতার সেই গৌরবময় অধ্যায় পেছনে ফেলে আজ তিনি এক করুণ বাস্তবতার মুখোমুখি। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। মেরুদণ্ডের জটিল সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় তিনি ধীরে ধীরে জনজীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
 

ব্যক্তিগত জীবনেও নেমে আসে গভীর অন্ধকার। চলতি বছরের ২ মার্চ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন তার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় সঙ্গী, স্ত্রী প্রফেসর ড. শাহিদা রফিক। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডিন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। প্রিয়তমা স্ত্রীকে হারিয়ে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার জীবন হয়ে ওঠে আরও নিঃসঙ্গ ও নিরাশ্রয়।
 

যে মানুষ সারা জীবন রাজনীতি, জনগণ ও কর্মীদের ভিড়ে থেকেছেন, আজ তিনি কাটাচ্ছেন নীরব, একাকী ও বেদনাময় সময়। তার বর্তমান অবস্থা শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়—এটি এক গভীর বার্তা। ক্ষমতা, প্রতিপত্তি ও মর্যাদা ক্ষণস্থায়ী; শেষপর্যন্ত একজন মানুষকে বিচার করা হয় তার কর্মফল, মানবিকতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে। সেই মাপকাঠিতে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ছিলেন সত্যিই একজন উদারমনা মানুষ।
 

বর্তমানে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। তার পরিবার দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়েছেন। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার নিঃসঙ্গ জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—জীবন কখনও শুধুই ক্ষমতা বা পদবির নয়, বরং সম্পর্ক, ভালোবাসা ও মানবিকতার সমষ্টিই একজন মানুষকে অমর করে রাখে।