সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৯:০৮:৩৬ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

অবরোধ-উত্তেজনায় তেলের দাম সর্বোচ্চ, ব্যারেল ছাড়াল ১২০ ডলার

অবরোধ-উত্তেজনায় তেলের দাম সর্বোচ্চ, ব্যারেল ছাড়াল ১২০ ডলার

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি অবরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার অতিক্রম করে স্বল্প সময়ের জন্য ১২২ ডলারে পৌঁছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। বৃহস্পতিবার সকালেও দাম প্রায় ১২০ ডলারে স্থির রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া এবং সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কাই বাজারে এই চাপ তৈরি করেছে। বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। সংঘাতের জেরে কয়েক মাস ধরেই প্রণালিটি কার্যত অচল অবস্থায় রয়েছে।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে জ্বালানি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকও বাজারে নতুন বার্তা দিয়েছে। ওই বৈঠকে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, জাহাজ চলাচল, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বৈশ্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এতে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাই আরও জোরালো হয়েছে।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির বন্দর কার্যক্রমে অবরোধ জোরদারের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

ফেব্রুয়ারির শেষদিকে শুরু হওয়া সামরিক উত্তেজনার পর থেকেই তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মাঝে কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক অবরোধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় আবারও দাম বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে যুদ্ধবিরতির খবরে দাম কমে এলেও তা স্থায়ী হয়নি।

এদিকে অর্থনৈতিক দিক থেকে ইরান চাপে রয়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং মুদ্রার মান রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় ২০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাকরি হারিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্রাম্প ইরানকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটিকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশলেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি বাজারে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে। সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে আগামী বছর বৈশ্বিক জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে পড়তে শুরু করেছে। ইউরোপের প্রধান সূচকগুলোতে পতন দেখা গেলেও এশিয়ার কিছু বাজারে সীমিত উত্থান লক্ষ্য করা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম।