ভারতে প্রায় প্রতিটি নারীই যৌন হয়রানির শিকার হয়। সেটা জনাকীর্ণ স্থানে, বাসে বা রাস্তায়। অনেক নারীই চেষ্টা করে এ ধরনের আচরণের পাল্টা জবাব দিতে। নিজের কাছে যা আছে সেটাকেই কাজে লাগায় তাদের হেনস্তাকারীদের আঘাত করার জন্য।
বিবিসি প্রতিনিধি গীতা পান্ডে নিজের অভিজ্ঞতার জানান। তিনি বলেন, ‘নারীরা যা পেত তাই ব্যবহার করত। কয়েক দশক আগেও কলকাতায় কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা ট্রামে যাতায়াত করত। ভিড়ের মধ্যে সেই ট্রামে আমি আর বন্ধুরা যাতায়ত করতাম। তখন আমরা আমাদের ছাতা ব্যবহার করতাম। আমরা অনেকেই লম্বা নখ রাখতাম। বেশ ধারালো করেই রাখতাম। যাতে হেনস্তাকারীদের নখের আঁচড়া দেওয়া যায়। অন্যরা আবার নিজেদের হিল দিয়ে এ ধরনের পুরুষদের আঘাত করত। যারা ভিড়ের সুযোগ নিয়ে আমাদের যৌন হয়রানি করত।’
তবে অন্য সব কিছুর চেয়ে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হলো ‘সেফটি পিন’। ১৮৪৯ সালে এই সেফটি পিনের উদ্ভাবন। এর পর থেকেই এটি বিশ্বজুড়ে নারীরা তাদের পোশাকে ব্যবহার করে আসছে। কিন্তু শুধু পোশাকে নয়, হয়রানিকারীদের শক্ত জবাব দিতেও এটি ব্যবহার করছে।
কয়েক মাস আগে ভারতের বেশ কয়েকজন নারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে স্বীকার করেছিলেন, তারা সব সময় তাদের হ্যান্ডব্যাগে সেফটি পিন রাখেন। এই ছোট জিনিসটি দিয়ে জনাকীর্ণ স্থানে বিকৃত আচরণের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য তাদের পছন্দের অস্ত্র।
এমনই একজন দীপিকা শেরগিল। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘আমি নিয়মিত বাসে করে অফিসে যাতায়াত করতাম। ঘটনাটি কয়েক দশক আগে ঘটেছিল। কিন্তু কিছুটা মনে আছে। তখন আমার বয়স ছিল ২০। আর যে লোক আমার সঙ্গে এমন ব্যবহার করেছিল তার বয়স ছিল ৪০। সে সব সময় একটি ধূসর সাফারি পরত, পায়ে খোলা স্যান্ডেল পরত এবং একটি চামড়ার ব্যাগ নিত সঙ্গে। লোকটি সব সময় আমার পাশে এসে দাঁড়াত। ঝুঁকে পড়ত আমার ওপর। আমার পিঠে তার কুনই দিয়ে ঘষা দিত আর ড্রাইভার যখনই ব্রেক লাগাত তখনই আমার ওপর পড়ে যেত।’
তিনি বলেন, ‘সেই দিনগুলোতে খুব ভীত থাকতাম এবং নিজের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমন কিছু করতাম না। কয়েক মাস ধরে নীরবে ভুগেছি। কিন্তু এক সন্ধ্যায় সে বাসে আমার সিটের পাশে দাঁড়িয়ে হস্তমৈথুন শুরু করল এবং আমার কাঁধে বীর্যপাত করল। তখন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, এবার যথেষ্ট হয়েছে!’








