বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৪৮:১০ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •       • সীতাকুণ্ডে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল মুনসুরের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন •       • মুরাদনগরের নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মেম্বার প্রার্থী তারেক আহম্মেদ সুমন •       • লোকসান সামাল দিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াল বিপিসি •

মুরাদনগরে নিম্নমানের কাঁচামালে পণ্য উৎপাদন, অনুমোদনহীন কারখানায় রমরমা বাণিজ্য

মুরাদনগরে নিম্নমানের কাঁচামালে পণ্য উৎপাদন, অনুমোদনহীন কারখানায় রমরমা বাণিজ্য

এন এ মুরাদ, মুরাদনগর:

 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাবুটি পাড়া ইউনিয়নের বাবুটিপাড়া পশ্চিমপাড়া সড়কের পাশে সাইনবোর্ডবিহীন একটি ঘরে নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে একটি কারখানার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুমোদন ছাড়াই এসব পণ্য তৈরি ও প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানার এক পাশে মাছের খাদ্য মজুদ রাখা হয়েছে এবং অন্য পাশে চা, ‘টেস্টি পিওর’ সফট ড্রিংকস পাউডার, চিনিগুঁড়া চাল, সরিষার তেল, মাসকলাই ডাল ও ডাল ভাজাসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।

মুরাদনগরে নিম্নমানের কাঁচামালে পণ্য উৎপাদন, অনুমোদনহীন কারখানায় রমরমা বাণিজ্য

 

অভিযোগ রয়েছে, কারখানার মেঝেতে খোলা অবস্থায় বিভিন্ন পাউডার রেখে নিম্নমানের ফ্লেভার ও চিনি মিশিয়ে ‘টেস্টি পিওর’ নামে সফট ড্রিংক বোতলজাত করা হচ্ছে। এছাড়া পামওয়েল ব্যবহার করে ‘নূরে মদিনা’ নামে সরিষার তেল বোতলজাত করা হচ্ছে, যার কোনো বৈধ অনুমোদন নেই বলে জানা গেছে।

 

এছাড়াও, সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আনা ভারতীয় ৫০ কেজির চালের বস্তা খুলে ১ কেজি ওজনের চিনিগুঁড়া চালের প্যাকেট তৈরি করে বাজারজাত করার অভিযোগ রয়েছে।

 

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) অফিস সূত্রে জানা গেছে, কোনো প্রতিষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট পণ্যের অনুমোদন থাকলে কেবল সেই পণ্যই বিধিমোতাবেক উৎপাদন করতে পারবে। অন্য কোনো পণ্য একই কারখানায় উৎপাদন বা সংরক্ষণ করা যাবে না। এদিকে ‘আল কারীম কনজ্যুমার প্রোডাক্টস’ নিয়ম উপেক্ষা করে একই স্থানে একাধিক পণ্য উৎপাদন ও মোড়কজাত করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এছাড়া কারখানাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

কারখানার মালিক সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, ‘আল কারীম’ নামে কোম্পানির সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবে তিনি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কোনো বৈধ কাগজ দেখাতে পারেননি। এমনকি তাঁর ট্রেড লাইসেন্স দুই বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ।

 

কুমিল্লা বিএসটিআইয়ের ফিল্ড অফিসার ইকবাল আহমেদ জানান, ‘আল কারীম কনজ্যুমার প্রোডাক্টস’ চা ও সফট ড্রিংকস পাউডার—এই দুটি পণ্যের অনুমোদন পেয়েছে। বাকি পণ্যের কোনো অনুমোদন নেই। তিনি আরও বলেন, পরিদর্শনের মাধ্যমে পণ্যের গুণগত মান যাচাই করা সম্ভব। খাদ্যপণ্যের পাশে মাছ ও মুরগির ফিড সংরক্ষণ সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান।