রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১১:৪৯:৪৬ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •       • নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •       • কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি টুটুল গ্রেপ্তার •       • মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী •       • বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন •       • মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার •       • মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •       • মুরাদনগরে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হোসেন গ্রেফতার •       • আল্লামা হাশেমী শিক্ষা বৃত্তি অর্জন: একই মঞ্চে বাবার গৌরব ও মেয়ের জোড়া সাফল্য •

তিস্তার চরে স্ট্রবেরি চাষে পুঁজি হারাতে বসেছে কৃষক

তিস্তার চরে স্ট্রবেরি চাষে পুঁজি হারাতে বসেছে কৃষক

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-


 

কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার তিস্তা নদীর অববাহিকায় স্ট্রবেরি চাষ করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দুই কৃষক। লাভবান হওয়ার আশায় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে চাষ করা স্ট্রবেরি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের। ফলন ভালো না হওয়ায় পুঁজি হারানোর দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে প্রবাসফেরত দুই কৃষকের।

 

তিস্তার চরে স্ট্রবেরি চাষে পুঁজি হারাতে বসেছে কৃষক


 

দেখা গেছে, জেলার উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের তিস্তা নদীর বালু চরের বেলে ও দোআশ মাটিতে দেশের বৃহৎ স্ট্রবেরির চাষ করে প্রবাস ফেরত দুই তরুণ কৃষক আব্দুর রাজ্জাক ও হারুনুর রশিদ। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে ১২ একর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন তারা। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গত নভেম্বর মাসে ৬টি জাতের সাড়ে তিন লাখ স্ট্রবেরি চারা লাগিয়েছেন এই দুই উদ্যোক্তা। স্ট্রবেরি চাষের শুরুতে চমক সৃষ্টি করলেও বর্তমানে হতাশায় ভুগছেন তারা। ক্ষেতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ স্ট্রবেরি গাছ থাকলেও ফলন না আসায় লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের।

 

তিস্তার চরে স্ট্রবেরি চাষে পুঁজি হারাতে বসেছে কৃষক — ছবি ২


 

তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে এখানে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করি। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর এই বিদেশি ফল জেলার চাহিদা মিটিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করার ইচ্ছা ছিল। এই ফল খুচরা বিক্রি হয় ৭০০- ৮০০ টাকা কেজি। চরে আলু, গম, ভুট্টার চেয়ে স্ট্রবেরিতে অনেক লাভ। চারা রোপণের ৪৫ হতে ৬৫ দিনের মাথায় ফলন আসতে শুরু করে। প্রতি একরে ১০ টন করে ফলন লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা অর্জন করা সম্ভব হয়নি। চারার গুণগত মান খারাপ হওয়ায় সে আশায় গুড়ে বালি। এখন লাভ তো দূরের কথা দেড় কোটি টাকা বিনিয়োগ করে পাঁচ লাখ টাকার ফলন উৎপাদন করা সম্ভব হবে না বলেও জানান এ উদ্যোক্তা।

 

তিস্তার চরে স্ট্রবেরি চাষে পুঁজি হারাতে বসেছে কৃষক — ছবি ৩


 

স্ট্রবেরি ক্ষেতে কাজ করা কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, আমিসহ মোট তিনজন শ্রমিক স্ট্রবেরি ক্ষেতে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে কাজ করি। অনেক আশা নিয়ে স্ট্রবেরি চারা গাছগুলো লালন পালন করি। কিন্তু সঠিক সময়ে কাঙ্ক্ষিত ফলন না আসায় লোকসান গুণতে হচ্ছে। স্ট্রবেরি চাষে লাভবান হলে এ অঞ্চলে ব্যাপকভাবে এই ফল চাষাবাদে হতো। কৃষি বিভাগের দায়িত্বহীনতা আর চারা নির্বাচনে ভুল হওয়ায় বিশাল ক্ষতি হয়েছে।
 

স্ট্রবেরি ক্ষেত দেখতে আসা মো. নুর ইসলাম বলেন, স্ট্রবেরি ক্ষেত দেখে মুগ্ধ হয়েছি। এই স্ট্রবেরি ফল বাজারে কিনে খেয়েছি কখনও ক্ষেত দেখা হয় নাই। ক্ষেত দেখে ভালো লাগলেও ফলন আর সম্ভাবনার কথা শুনে খারাপ লাগল।
 

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উলিপুরের বজরায় তিস্তা নদীর চরে ১২ একর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন আব্দুর রাজ্জাক ও হারুনুর রশিদ নামে দুই উদ্যোক্তা। আমরা উপজেলা কৃষি বিভাগের মাধ্যমে তাদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিয়েছি। শীত মৌসুমে স্ট্রবেরি চাষ হয় এবং কুড়িগ্রামের আবহাওয়া স্ট্রবেরি চাষের জন্য উপযোগী। তারা যদি সাফল্য পায় তাহলে জেলা জুড়ে স্ট্রবেরি চাষ সম্প্রসারণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে।