মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৬:৫২:৫৩ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে •       • চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •       • নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •       • কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি টুটুল গ্রেপ্তার •       • মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী •       • বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন •       • মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার •       • মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •       • মুরাদনগরে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক কারবারি হোসেন গ্রেফতার •

গাইবান্ধায় শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, বাড়ছে শীতজনিত রোগ

গাইবান্ধায় শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত, বাড়ছে শীতজনিত রোগ

ঢাকা প্রেস
সিরাজুল ইসলাম রতন,গাইবান্ধা প্রতিনিধি:-


 

মাঘের দ্বিতীয় সপ্তাহে উত্তরাঞ্চলের গাইবান্ধা জেলায় শৈত্যপ্রবাহের প্রকোপ বাড়ছে। বুধবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে সূর্যের দেখা মেলেনি। আকাশ ঢেকে ছিল ঘন কুয়াশায়, যা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো ঝরছিল। হিমেল হাওয়ার কারণে তীব্র শীত অনুভূত হয়। দিনভর সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহন চলতে দেখা যায়।
 

সকালে তাপমাত্রা ছিল ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা দুপুরে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠলেও বিকেলের দিকে নেমে আসে ১৯ ডিগ্রিতে। সূর্যের অনুপস্থিতিতে মানুষ প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। শ্রমজীবী মানুষের কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

 

ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদী বেষ্টিত ১৬৫টি চরাঞ্চলের বাসিন্দারা শীতের প্রকোপে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শহর ও উপজেলা এলাকাতেও মানুষের চলাচল কম। শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শীতজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে।

 

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীরা গাদাগাদি করে অবস্থান করছেন। অনেক শিশুকে গরম কাপড়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। কেউ স্যালাইন নিচ্ছেন, আবার কারও শরীরে নেবুলাইজার দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে জায়গার সংকটে বারান্দায় শয্যা বিছিয়ে রোগীদের রাখা হয়েছে।
 

গ্রামের চিত্রও একই। শীত নিবারণের জন্য অনেকেই বাড়ির উঠোনে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকছেন। পাটের চট দিয়ে গবাদিপশু ঢেকে রাখা হয়েছে। চায়ের দোকানগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে।

 

সদর উপজেলার দক্ষিণ বারুইপাড়া গ্রামের বর্গাচাষি আব্দুর রহমান ভুট্টো বলেন, “শীতের কষ্টে রাতে ঘুম আসে না। কোনোভাবে রাত কাটাই। সকালে ঠান্ডা বেশি থাকে, আগুন জ্বালিয়ে সময় কাটাতে হয়।”
 

একই গ্রামের মজিরন খাতুন জানান, “দুই মেয়েকে কাঁথা মুড়িয়ে রাত কাটাই। সন্ধ্যা থেকে আগুন জ্বালিয়ে থাকি।”


জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার ৪টি পৌরসভা ও ৮২টি ইউনিয়নের শীতার্তদের মধ্যে ২১ হাজার ৪০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের কম্বল কেনার অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
 

শীতের তীব্রতা ও রোগের প্রাদুর্ভাবে গাইবান্ধার জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। শীতার্ত মানুষ স্বস্তির আশায় দিন কাটাচ্ছেন।