চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম নগরে হঠাৎ করে এলপিজি গ্যাস বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল এলাকাগুলোতে কয়েকদিন ধরেই সংকট চলছিল, এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার থেকে বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
নগরের বাকলিয়া কল্পলোক আবাসিক এলাকার আলী ম্যানসনের বাসিন্দা জাহেদুল ইসলাম জানান, কয়েকদিন আগে তার বাসার গ্যাস সিলিন্ডার শেষ হয়ে যায়। নতুন সিলিন্ডার পাওয়ার আশায় আশপাশের বিভিন্ন দোকান ঘুরেও তিনি গ্যাস পাননি। বৃহস্পতিবার সকালে কালামিয়া বাজারে গিয়ে জানতে পারেন, এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এতে তার পরিবারসহ একই ভবনের আরও ১২টি পরিবার বিপাকে পড়েছে।
সরকারি আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় বাকলিয়াসহ নগরের কয়েকশ ভবনের বাসিন্দা পুরোপুরি এলপিজির ওপর নির্ভরশীল। এমন অবস্থায় সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে।
এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির ডাকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ডিলার পয়েন্ট ও খুচরা দোকানে সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ দেখা গেছে। বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, হালিশহর ও পতেঙ্গা এলাকার একাধিক দোকানদার জানিয়েছেন, সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী তারা সিলিন্ডার উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। যদিও কিছু দোকানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সীমিত সংখ্যক সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চকবাজারের খুচরা বিক্রেতা তসলিম উদ্দিন বলেন, দোকান খোলা থাকলেও সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে না। বহদ্দারহাটের এক খুচরা বিক্রেতা গ্রাহক পরিচয়ে জানতে চাইলে জানান, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৬০০ টাকা হলে তবেই পাওয়া যেতে পারে। অথচ চলতি জানুয়ারি মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারণ করেছে ১ হাজার ৩০৬ টাকা।
এদিকে হঠাৎ বিক্রি বন্ধ হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বহদ্দারহাট এলাকার গৃহিণী শামীমা আক্তার বলেন, “সিলিন্ডার প্রায় শেষ। সকালে নতুন করে নিতে এসে দেখি কোথাও গ্যাস নেই। রান্না নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছি।”
কল্পলোক আবাসিক এলাকার নিরাপত্তাকর্মী আবুল বশর জানান, ভবনের প্রায় সব ফ্ল্যাটেই গ্যাস সিলিন্ডার শেষ হয়ে গেছে। দ্বিগুণ দাম দিয়েও কয়েকদিন ধরে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁ খাত। বহদ্দারহাটের খাজা হোটেলের ব্যবস্থাপক আব্দুন রশিদ বলেন, “এলপিজি ছাড়া রান্না করা সম্ভব নয়। কয়েকদিন এমন চললে ব্যবসা বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় থাকবে না।”
এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি জানিয়েছে, বিইআরসি থেকে নতুন করে এলপিজির মূল্য সমন্বয়, পরিবেশক ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক হয়রানি ও জরিমানা বন্ধসহ একাধিক দাবিতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বুধবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলনে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হলেও দাবি পূরণ না হওয়ায় সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এলপিজি বিক্রি বন্ধের নোটিশ জারি করা হয়।







