শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৩:৪৯:০৯ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• মুরাদনগর উপজেলার ১৫ নং পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন-নবীনদের পছন্দের শীর্ষে ফারুক আহম্মেদ বাদশা •       • কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •       • জীবনের পরম তৃপ্তি ও এক অদ্ভুত বাস্তবতা: নাজমুল হাসান সরকার সহকারী সচিব •       • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •

তরুণদের ‘থ্রি-জিরো ক্লাব’ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

তরুণদের ‘থ্রি-জিরো ক্লাব’ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বকে বদলে দিতে তরুণদের ‘থ্রি-জিরো ক্লাব’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
 

মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘সোশ্যাল বিজনেস, ইয়ুথ অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
 

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আমি এমন একটি বিশ্বের কথা বলছি, যেখানে তিনটি শূন্য বাস্তবায়িত হবে—শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ, শূন্য সম্পদ কেন্দ্রীকরণ (যাতে দারিদ্র্য দূর হয়) এবং শূন্য বেকারত্ব (যা সবার সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে সম্ভব)।”
 

তিনি আরও যোগ করেন, “শূন্য বর্জ্য বা জিরো ওয়েস্ট ধারণাটিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি জাতিসংঘ মহাসচিবের ‘জিরো ওয়েস্ট ইনিশিয়েটিভ’ এর অংশ। এটি কোনো কল্পনা নয়—ইতোমধ্যে বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এজন্যই আমরা তরুণদের উৎসাহিত করছি সর্বত্র থ্রি-জিরো ক্লাব গড়ে তুলতে, যেখানে প্রত্যেকে থ্রি-জিরো মানুষ হয়ে উঠতে পারবে।”
 

প্রধান উপদেষ্টা ব্যাখ্যা করেন, একজন থ্রি-জিরো মানুষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় টেকসই জীবনযাপন, বর্জ্য হ্রাস এবং সামাজিক উদ্যোক্তা হওয়ায়। তারা একই সঙ্গে সচেষ্ট থাকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, সম্পদ বৈষম্য ও বেকারত্বের বিরুদ্ধেও অবদান না রাখতে।
 

ড. ইউনূস বলেন, “যত বেশি মানুষ এই আন্দোলনে যুক্ত হবে, এই ক্লাবগুলো রূপ নেবে থ্রি-জিরো পরিবারে, থ্রি-জিরো গ্রামে, থ্রি-জিরো শহরে—এবং একদিন গড়ে উঠবে একটি থ্রি-জিরো বিশ্ব। সবকিছু একটি ছোট পদক্ষেপ দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু সেই পদক্ষেপগুলোই একত্রে বিশ্বকে বদলে দিতে পারে।”
 

তিনি আরও জানান, “আমি সবসময় বিশ্বাস করেছি এই ধরনের ফোরাম কেবল বক্তৃতার ক্ষেত্র নয়—এটি অনুপ্রেরণার জায়গা। আমাদের ঐক্যেই নিহিত প্রকৃত রূপান্তর। যদি আমরা একসাথে হাত মিলাই—সামাজিক ব্যবসার শক্তি, তরুণদের উদ্যম এবং প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাই—তবে জটিল বৈশ্বিক সংকটও আমরা সমাধান করতে পারব।”
 

ড. ইউনূস শেষ করেন, “আসুন আমরা এক নতুন তরঙ্গের স্থপতি হই—ন্যায়, টেকসই এবং আশার ভিত্তিতে নির্মিত একটি পৃথিবীর। এমন একটি পৃথিবী, যেখানে আমাদের যৌথ স্বপ্ন মানবতার জন্য নতুন ভোরের সূচনা করবে।”