শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৫:১৫:০৬ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• মুরাদনগর উপজেলার ১৫ নং পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন-নবীনদের পছন্দের শীর্ষে ফারুক আহম্মেদ বাদশা •       • কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •       • জীবনের পরম তৃপ্তি ও এক অদ্ভুত বাস্তবতা: নাজমুল হাসান সরকার সহকারী সচিব •       • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •

দেবীদ্বারে নিখোঁজের ৩৫ দিন পর শ্বশুরবাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কি থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

দেবীদ্বারে নিখোঁজের ৩৫ দিন পর শ্বশুরবাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কি থেকে কৃষকের লাশ উদ্ধার

কাউছার সরকার (বিশেষ প্রতিনিধি) কুমিল্লা:-

 

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় পরিবারের সাজানো নিখোঁজ নাটকের ৩৫ দিন পর শ্বশুরবাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় এক কৃষকের গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
 

নিহত ব্যক্তির নাম করিম ভূঁইয়া (৪৫)। তিনি উপজেলার বড়শালঘর মন্ত্রীপুল সংলগ্ন ভূঁইয়া বাড়ির মৃত কাসেম ভূঁইয়ার ছেলে এবং পেশায় কৃষক ছিলেন।
 

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গাবুদ্দি সরকার বাড়ির পাশে গোমতী নদীর সংযোগ খালের ধারে নির্মাণাধীন একটি সেফটি ট্যাঙ্কি থেকে করিম ভূঁইয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়।
 

নিহতের বড় ভাই আমির হোসেন (৬০) জানান, গত ১৩ আগস্ট করিম ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কেল্লা শাহ দরবারে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় তিনি ১৬ আগস্ট দেবীদ্বার থানায় নিখোঁজ ডায়েরি (নং-৮৩৪) করেন। মাইকিং ও পোস্টারিংসহ নানা প্রচেষ্টা চালিয়েও কোনো খোঁজ মেলেনি।
 

তিনি আরও জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোন করে শ্বশুরবাড়ি এলাকায় খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে স্বজন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে সেফটি ট্যাঙ্কি থেকে হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করে।
 

আমির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, করিম ভূঁইয়ার সঙ্গে স্ত্রী তাছলিমা আক্তারের (৪০) প্রায়ই কলহ হতো। নারী নির্যাতন মামলায় স্ত্রী একবার তাকে জেলেও পাঠিয়েছিলেন। দুই ছেলে তানজিদ ভূঁইয়া (২২) ও তৌহিদ ভূঁইয়া (২১) মায়ের পক্ষ নিয়ে তাকে মারধর করত। পরিকল্পিতভাবে স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই শ্যালক—কুয়েত প্রবাসী মোজাম্মেল হক (৪২) এবং কৃষক ইশরাফিল (৪০)—মিলে তাকে হত্যা করে সেফটি ট্যাঙ্কিতে লাশ ফেলে রাখে বলে তিনি দাবি করেন।
 

তিনি আরও জানান, নিহতের দুই ছেলে মাদকাসক্ত এবং বাবাকে জমি বিক্রি করে তাদের বিদেশ পাঠানো ও সম্পত্তি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল।
 

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “ঘটনাটি রহস্যজনক। নিহত করিম ভূঁইয়ার সম্পদ ছিল প্রচুর। তার বিরুদ্ধে নেশাগ্রস্ততা, নারী আসক্তি এবং কন্যার প্রতিও কুনজর দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালকরা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে।”
 

তিনি আরও জানান, নিহতের স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই শ্যালককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।