শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৪:১৮:৫৩ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• মুরাদনগর উপজেলার ১৫ নং পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন-নবীনদের পছন্দের শীর্ষে ফারুক আহম্মেদ বাদশা •       • কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •       • জীবনের পরম তৃপ্তি ও এক অদ্ভুত বাস্তবতা: নাজমুল হাসান সরকার সহকারী সচিব •       • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •

স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী-ভাইদের হাতে খুন করিম ভূঁইয়া

স্বামীর নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী-ভাইদের হাতে খুন করিম ভূঁইয়া

কাউছার সরকার (বিশেষ প্রতিনিধি) কুমিল্লা:-

 

কুমিল্লার দেবিদ্বারে আলোচিত করিম ভূঁইয়া হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী তাছলিমা বেগম তিন ভাইকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীকে খুন করেন বলে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন তারা।
 

পুলিশ জানায়, গত ১৩ আগস্ট সকাল থেকে বড়শালঘর মন্ত্রীবাড়ি এলাকার মৃত আবুল কাশেম ভূঁইয়ার ছেলে আব্দুল করিম ভূঁইয়া নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ভাই আমির হোসেন থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের এক মাস ৫ দিন পর, ১৭ সেপ্টেম্বর, করিমের শ্বশুরবাড়ি রসুলপুর গ্রামের একটি টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়।
 

পরে স্ত্রী তাছলিমা বেগম এবং তার তিন ভাই—ইসরাফিল, গোলাম হাক্কানী ও মোজাম্মেল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার আদালতে জবানবন্দি দেন।
 

তদন্তে জানা যায়, করিম ভূঁইয়া নিয়মিত মাদক সেবন করতেন এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাছলিমা তিন ভাইকে নিয়ে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
 

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট রাতে করিমকে মাদকের প্রলোভন দেখিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ডেকে নেয় ইসরাফিল। সেখানে তিন ভাই মিলে লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই করিমের মৃত্যু হয়। পরে স্ত্রী তাছলিমা রক্ত পরিষ্কার করেন এবং মরদেহ খালে ফেলে দেন। কিন্তু সকালে লাশ ভেসে উঠলে আবারও তারা সেটি তুলে এনে হাত-পা বেঁধে শ্বশুরবাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখেন।
 

দেবিদ্বার থানার ওসি সামছুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, দীর্ঘ তদন্ত ও নজরদারির পর আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যার রহস্য পুরোপুরি উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।