শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ১০:১০:২০ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• মুরাদনগর উপজেলার ১৫ নং পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন-নবীনদের পছন্দের শীর্ষে ফারুক আহম্মেদ বাদশা •       • কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •       • জীবনের পরম তৃপ্তি ও এক অদ্ভুত বাস্তবতা: নাজমুল হাসান সরকার সহকারী সচিব •       • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •

বাবা মাছের আড়তের শ্রমিক, ছেলে এখন ম্যাজিস্ট্রেট — গর্বে ভাসছে পুঠিয়া

বাবা মাছের আড়তের শ্রমিক, ছেলে এখন ম্যাজিস্ট্রেট — গর্বে ভাসছে পুঠিয়া

মোঃ শফিকুল ইসলাম, চারঘাট (রাজশাহী):-


 

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার গাঁওপাড়া গ্রামের এক শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম মোঃ শাহরিয়ার হোসেনের। তার বাবা আব্দুস সাত্তার তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় মাছের আড়তে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অন্যের মাছ বাজারজাত করেই তিনি সংসারের চাকা ঘুরিয়েছেন, ছেলেকে মানুষ করেছেন। সেই পরিশ্রমী বাবার হাত ধরেই আজ তাঁর ছেলে হয়েছেন দেশের গর্ব— ৪৩তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট।
 

শাহরিয়ার হোসেন ৪৩তম বিসিএসে সারা বাংলাদেশে ২৩২তম স্থান অর্জন করে প্রশাসন ক্যাডারে স্থান পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি নড়াইল জেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত এবং বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকার সাভারে অবস্থান করছেন।
 

এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক শ্রমজীবী পিতার অদম্য পরিশ্রম ও এক মায়ের নিঃস্বার্থ ত্যাগ। আব্দুস সাত্তার বলেন,

“৩৫ বছর ধরে পুঠিয়ার আমিনুল ইসলাম মন্ডলের মাছের আড়তে খেটে খেটে ছেলেকে পড়িয়েছি। রোদে পুড়েছি, বৃষ্টিতে ভিজেছি, শুধু চাইছিলাম ছেলেটা মানুষ হোক। আজ সে ম্যাজিস্ট্রেট হয়েছে— এর চেয়ে আনন্দ আমার জীবনে আর কিছু নেই। এখন শুধু চাই সে যেন দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করে।”

মা ফেরদৌস আরা বেগমও চোখে জল নিয়ে বলেন,

“আমরা অল্প অল্প করে টাকা জোগাড় করে ওকে পড়িয়েছি। কত কষ্ট করেছি, তা কেউ জানে না। আজ সে সফল— আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া। সবাই ওর জন্য দোয়া করবেন।”

গাঁওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রুবাইয়া সুলতানা বলেন,

“নিজের কোনো ছাত্র এভাবে সফল হলে শিক্ষক সমাজের আনন্দের সীমা থাকে না। শাহরিয়ার আমাদের গর্ব। তার জন্য দোয়া করি, সে যেন আরও বড় কিছু করে দেখাতে পারে।”

অন্যদিকে, তাঁর আরেক শিক্ষিকা আঞ্জুমান আরা বলেন,

“শিক্ষকের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো ছাত্রদের সফলতা। শাহরিয়ারের অর্জন আমাদের সকলের আনন্দ। তার জন্য অফুরন্ত শুভকামনা।”

শাহরিয়ার হোসেন বিনয়ের সঙ্গে বলেন,

“এই সাফল্য আমার বাবা-মায়ের ত্যাগ ও শিক্ষকদের দোয়ার ফল। আমি চাই মানুষের জন্য, দেশের জন্য কাজ করতে।”

শাহরিয়ারের এই অর্জনে শুধু তাঁর পরিবার নয়, গাঁওপাড়ার প্রতিটি মানুষ আজ গর্বিত। মাছের আড়তের এক শ্রমিক পিতার অক্লান্ত পরিশ্রম আর মেধাবী সন্তানের অধ্যবসায় মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে এক অনুপ্রেরণামূলক সাফল্যের গল্প।