শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৯:৩৮:০৮ পিএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •       • জীবনের পরম তৃপ্তি ও এক অদ্ভুত বাস্তবতা: নাজমুল হাসান সরকার সহকারী সচিব •       • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •       • ইউপি নির্বাচনে জামানত পাঁচ গুণ বাড়ল •

১৬ ঘণ্টা পর আগুন নেভানো হলো কড়াইল বস্তিতে

১৬ ঘণ্টা পর আগুন নেভানো হলো কড়াইল বস্তিতে

রাজধানীর মহাখালী এলাকার কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১৬ ঘণ্টা পর আগুন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসে। বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগুন নেভানোর কাজ শেষ হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৫টা ২২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর একে একে ১৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত হয়।
 

ফায়ার সার্ভিস জানায়, তীব্র যানজটের কারণে প্রথমেই ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব ঘটে। পরে বস্তির সরু গলির কারণে আগুনের কাছে যানবাহন নিয়ে যেতে না পেরে দীর্ঘ পাইপ টেনে পানি ছিটাতে হয়। পাঁচ ঘণ্টার বেশি সংগ্রামের পর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন আংশিক নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম।
 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে দেড় হাজারেরও বেশি ঘর পুড়ে গেছে এবং শত শত পরিবার আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও আগুন লাগার সঠিক কারণ তদন্তের পর জানানো হবে বলে খুদে বার্তায় জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।
 

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর কাছাকাছি পানির উৎস না থাকায় আগুন নেভাতে অতিরিক্ত সমস্যা সৃষ্টি হয়। পরে বস্তির পাশের খাল থেকে পানি সংগ্রহ করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়।
 

ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত মানবিক বেদনাদায়ক। আগুনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করেন। কেউ কেউ শেষ চেষ্টা হিসেবে ঘরের কিছু মূল্যবান জিনিস সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন, আবার কেউ অসহায় কান্নায় ভেঙে পড়েন।
 

লাভলী বেগম নামে এক বাসিন্দা বলেন,
“আমার সব পুইড়া শ্যাষ; কিচ্ছু নাই। সাত বছর এই বস্তিতে আছি। অনেক কষ্টে কিছু জিনিসপত্র কিনছিলাম। ঘরে টিভি, ফ্রিজ ছিল। মাসে মাসে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়।”


এ ঘটনায় আশ্রয়হীন মানুষের পুনর্বাসন ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।