শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০১:৩৪:৩৯ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• মুরাদনগর উপজেলার ১৫ নং পশ্চিম নবীপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রবীন-নবীনদের পছন্দের শীর্ষে ফারুক আহম্মেদ বাদশা •       • কক্সবাজারের ব্যবসায়ী ইয়াহিয়ার ৫ বছরের কারাদণ্ড, ১২ কোটি টাকার বেশি জরিমানা •       • যুবসমাজকে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে খেলাধুলার বিকল্প নেই: ত্রাণমন্ত্রী •       • জীবনের পরম তৃপ্তি ও এক অদ্ভুত বাস্তবতা: নাজমুল হাসান সরকার সহকারী সচিব •       • ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অনস্ট্রিট পার্কিং নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা: নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনার এক জরুরি পদক্ষেপ •       • ‘আমার বাবা ভালো বাবা, মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে’ •       • লালমনিরহাটে স্বর্গীয় লাইচি বাসফোর ও রানা স্মৃতি ওয়ানডে ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত •       • গাজী নজরুল দ্বিতীয় দফায় ৪ দিনের রিমান্ডে •       • গুলশানে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মিছিল: ১৫ আসামির তিন দিনের রিমান্ড •       • ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি •

এক মঞ্চে আ. লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতা: মাধবপুরে তোলপাড়

এক মঞ্চে আ. লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতা: মাধবপুরে তোলপাড়

মো ইপাজ খাঁ মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:


 

হবিগঞ্জের মাধবপুরে চৌমুহনী খুর্শিদ হাই স্কুল এন্ড কলেজে আয়োজিত মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
 

গত রবিবার (১৬ নভেম্বর) কলেজের অধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রিয়া ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মোহন মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শহীদুল্লাহ।

 

এক মঞ্চে আ. লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতা: মাধবপুরে তোলপাড়

ছবি: একই মঞ্চে আ. লীগ নেতা ও অধ্যক্ষ মোহন মিয়া, ওসি মোঃ শহীদুল্লাহ এবং বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান সোহাগ; পাশে ভাইরাল হওয়া ফেসবুক স্ক্রিনশট।

 

কিন্তু একই মঞ্চে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান সোহাগসহ আরও কয়েকজন বিএনপি নেতা। ক্ষমতাসীন দল, বিরোধী দল এবং পুলিশ প্রশাসনের প্রতিনিধিদের একই মঞ্চে উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
 

অধ্যক্ষ মোহন মিয়া এলাকায় সাবেক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী ও আওয়ামী লীগ নেতা রহম আলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও পরিচিত। তাঁর পুরোনো ছবি ভাইরাল হওয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় একটি অংশের অভিযোগ, মোহন মিয়া অতীতে আওয়ামী লীগের প্রতি এতটাই অনুগত ছিলেন যে স্বতন্ত্র এমপি ব্যারিস্টার সাইদুল হক সুমন কলেজে গেলে যথাযথ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়নি এবং এমপি হলেও তিনি প্রটোকল পাননি। এছাড়া কলেজ পরিচালনা নিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও মাঝে মাঝে ওঠে বলে দাবী করা হচ্ছে।
 

অন্যদিকে সমর্থকরা মনে করছেন, মোহন মিয়া ছিলেন এমন একজন নেতা, যিনি উপজেলার একমাত্র প্রকাশ্য নেতৃত্বে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন এবং বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন।
 

এক মঞ্চে ওসি, বিএনপি নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থিতি নিয়ে জনমনে ভিন্নমুখী প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ মনে করছেন, মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে রাজনীতি মূল বিষয় নয়, আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন—প্রশাসনের নিরপেক্ষতা কি বজায় রয়েছে?
 

বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে কিছুজন জানিয়েছে, অতীতে আওয়ামী লীগ মোহন মিয়াকে ব্যবহার করেছে, আর বর্তমানে বিএনপি নেতারা তার কাছ থেকে সুবিধা নিচ্ছে—ঘুরেফিরে বিষয়টি একই রকম।
 

অধ্যক্ষ মোহন মিয়া নিজ অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেছেন,

“পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে একসময় দল করতাম। আমি কোনো অপরাধ বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। রাজনীতি করা খারাপ কিছু নয়। আওয়ামী লীগ তো নিষিদ্ধ সংগঠন নয়। একজন শিক্ষক হিসেবে আমি আমার দায়িত্ব পালন করছি।”

চৌমুহনী খুর্শিদ হাই স্কুল এন্ড কলেজে অনুষ্ঠিত কর্মসূচি এবং একই মঞ্চে আ. লীগ নেতা, ওসি ও বিএনপি নেতার উপস্থিতি নিয়ে মাধবপুরজুড়ে এখনো ব্যাপক আলোচনা চলছেই।