প্রকাশকালঃ ১৪ জুলাই ২০২৬, দুপুর ৩:২৭ সময়

ঢাকা প্রেস প্রতিবেদক
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত, বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা আয়োজনের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান জানতে চাইলে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি শিক্ষামন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে মুঠোফোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এখন আমার ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় নেই। আমি সংসদে প্রশ্নোত্তরের জবাব দেব। সংসদে প্রশ্নোত্তর শেষ করে তারপর ইন্টারভিউ দেব।”
এদিকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চলবে।
মঙ্গলবার সকালে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রীও যুক্ত ছিলেন।
পরে দুপুর দেড়টার দিকে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আপাতত পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের পাঁচ জেলার পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
অন্যদিকে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব, উত্তরা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। তারা শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি জানান।
বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড়ে ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। অনেক যাত্রীকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, শিক্ষার্থীরা সড়কে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ তাদের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করে।
অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার শাহীন আলম জানান, সকাল পৌনে ১২টার দিকে বিএনএস সেন্টারের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের কারণে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা “দফা এক, দাবি এক—মিলনের পদত্যাগ”, “ভোগান্তির দায় নিতে হবে” এবং “বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়”—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে পরীক্ষা স্থগিত ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ডও ছিল।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বৈরী আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়েই সোমবারের এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পরীক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কোথাও জলাবদ্ধতা, কোথাও দীর্ঘ যানজট, আবার কোথাও বিকল্প উপায়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। তাই তারা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিয়ে বিষয়টির জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।