প্রকাশকালঃ ১৪ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১:২০ সময়

চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজারে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে হামলাকারীদের রাজনৈতিক পরিচয় প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘এদের খুঁটির জোর কোথায়?’।
মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে এক ইন্টারনেট ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে তাণ্ডব চালানো দুর্বৃত্তদের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলে তা প্রকাশ করা উচিত। তিনি লিখেছেন, ‘তাদের পাকড়াও করে আইনের আওতায় আনুন। জানি না, কঠিন শাস্তির বিধান হবে কি না। লক্ষণ খুব ভালো নয়।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি দাবি করেন, সরকার জনগণকে কার্যকর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তার ভাষায়, একের পর এক নতুন ধরনের অপরাধ ঘটছে, ফলে আত্মরক্ষার জন্য জনগণকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে।

এর আগে সোমবার চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকার এক্সেস রোডে অবস্থিত ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের কার্যালয়ে একদল মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের অভিযোগ, শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয়ে ডেবিট ইমন নামে এক ব্যক্তি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে দুই কোটি টাকা এককালীন এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় এ হামলা চালানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সোমবার দুপুরে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল কার্যালয়ে ঢুকে প্রায় তিন মিনিট ধরে ভাঙচুর চালিয়ে চলে যায়। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যায় ডিডিএনের মালিকপক্ষ চকবাজার থানায় মামলা করতে যায়।
ডিডিএনের মালিক আদিল বিন মামুন বলেন, দুই দিন আগে বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে ডেবিট ইমন পরিচয় দেওয়া ব্যক্তি ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বলেন। ব্যবসা চালিয়ে যেতে চাইলে এককালীন দুই কোটি টাকা এবং মাসিক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর দুই দিনের মাথায় তাদের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, ডেবিট ইমন বিদেশে অবস্থানরত পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপের সহযোগী। ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।