প্রকাশকালঃ ১১ জুলাই ২০২৬, দুপুর ১:৪৬ সময়

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রামের কৃষি ও মৎস্যখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে প্রায় ১০ হাজার পুকুর ও চিংড়ি ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি ১৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ও দিঘি, ৩২০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ৪ হাজার ১১২ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালী উপজেলায়। সেখানে ২ হাজার ৫০০টি পুকুর, ৩১০টি চিংড়ি ঘের এবং প্রায় ১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষতি হয়েছে সাতকানিয়ায়, যেখানে ৪৬৬ হেক্টর জলাশয়ের মাছচাষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে বন্যার প্রভাবে কৃষিখাতেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাবে, ৮ হাজার ৭৬৮ হেক্টর আউশ ধান, ৬২১ দশমিক ৬৬ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৯০৭ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ১৪ হাজার ২৯৬ দশমিক ৬৬ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলা। এর মধ্যে বাঁশখালীতে ২ হাজার ১৫০ হেক্টর, চন্দনাইশে ২ হাজার ১২০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর এবং সন্দ্বীপে ১ হাজার হেক্টর আউশ ধানের জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা আপ্রু মারমা বলেন, ধানের পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির আবাদেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। চন্দনাইশে ৮৩০ হেক্টর, সীতাকুণ্ডে ৭০০ হেক্টর, সন্দ্বীপে ৬০০ হেক্টর, ফটিকছড়িতে ৪৭৫ হেক্টর, সাতকানিয়ায় ৪৬০ হেক্টর এবং বাঁশখালীতে ৪০০ হেক্টর জমির সবজি আবাদ নষ্ট হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বন্যার পানি নেমে গেলে মাঠপর্যায়ে পুনরায় জরিপ করে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হবে।