প্রকাশকালঃ ২৭ জুলাই ২০২৬, রাত ৯:৫৩ সময়

আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বিপুল সম্ভাবনা ও আশার বাণী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো 'বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল' (চায়নিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন-সিইআইজেড)-এর নির্মাণকাজ। প্রায় ৮০০ একর জমিতে নির্মিত হতে যাওয়া এই বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ৫০ কোটি (৫০০ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলায় প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, নির্বাহী চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন অথরিটি (বেজা)
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন,
"এই অর্থনৈতিক ও শিল্প জোন চালু হলে শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ভবিষ্যতে পুরো চট্টগ্রাম একটি বিশ্বমানের শিল্প ও লজিস্টিক হাবে পরিণত হবে।"
কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ: সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের আওতায় গড়ে ওঠা এ প্রকল্পে ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আসবে। একই সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অন্তত এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
সমাপ্তির সময়সীমা: পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
কৌশলগত সুবিধা: কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম বন্দর এবং শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় অঞ্চলটি অসাধারণ পরিবহন ও লজিস্টিক সুবিধা পাবে। ফলে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
গত ২২ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর প্রকল্পটিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হয়। ওই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন 'বেজা' এবং চীনা প্রতিষ্ঠান 'চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশন' (সিআরবিসি)-এর মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময় করা হয়।
প্রকল্পটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ- উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা আহমদ কবির জানান, এই বৃহৎ প্রকল্পের ফলে এলাকায় বেকারত্ব দূর হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দীন আবেগ প্রকাশ করে বলেন, "আজ আনোয়ারাবাসীর জন্য এক অত্যন্ত গৌরবের দিন। এই প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে পুরো দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক চিত্র পুরোপুরি বদলে যাবে।"