প্রকাশকালঃ ১২ এপ্রিল ২০২৬, বিকাল ৭:৪৯ সময়

💫 ৬ দিনেও মূল আসামিরা অধরা, এলাকাবাসীর ক্ষোভ
এন এ মুরাদ, মুরাদনগর (কুমিল্লা):
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় কৃষক মাওলা সরকার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয়রা।
রবিবার সকালে উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ-নবীনগর সড়কের বাঙ্গরা ডাকবাংলোর সামনে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। কর্মসূচির কারণে সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন শত শত যাত্রী।
প্রায় আধা ঘণ্টা পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক ছেড়ে দেন। পরে তারা থানার সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, একজন নিরীহ কৃষককে রাতের আঁধারে নির্মমভাবে হত্যা করা হলেও ঘটনার ছয় দিন পার হলেও এখনো পর্যন্ত মূল আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। নিহত মাওলা সরকারের পাঁচ শিশু সন্তান রয়েছে, যাদের বয়স ১ থেকে ১৩ বছরের মধ্যে।
বক্তারা আরও বলেন, “এটি শুধু একজন মানুষকে হত্যা নয়, বরং একটি পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।” এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানান তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
মহেশপুর গ্রামের বাসিন্দা ফিরোজ মিয়া বলেন, “এ ধরনের নৃশংস ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি পুরো সমাজের জন্য হুমকি। তাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া নিহতের স্বজনরা বলেন, “আমরা আমাদের প্রিয়জনকে হারিয়েছি। এখন আমরা শুধু হত্যাকারীদের বিচার চাই। দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।”
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে বাঙ্গরা বাজার থানার মহেশপুর গ্রামে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কৃষক মাওলা সরকারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেচ প্রকল্প নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে প্রধান আসামি খোরশেদ আলমসহ ১০ জনকে নামীয় এবং আরও ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল কাদের জানান, “এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”