প্রকাশকালঃ ১১ এপ্রিল ২০২৬, বিকাল ৫:৩৭ সময়

নিউজ ডেস্ক-ঢাকা প্রেস:
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় স্বামীর পরকীয়ার জের ধরে এক গৃহবধূকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ১টার দিকে উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ নছরুদ্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কুরসিয়া আক্তার (২৪) নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার গহুরদি উচিতপুর গ্রামের সাদেকুর রহমানের মেয়ে। তিনি এক পুত্র সন্তানের জননী ছিলেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে দাউদকান্দির নছরুদ্দি গ্রামের আব্দুল মান্নান মিয়ার ছেলে সাব্বির মিয়ার সঙ্গে পারিবারিকভাবে কুরসিয়ার বিয়ে হয়। সাব্বির একটি মসজিদে কর্মরত ছিলেন। বিয়ের সময় মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে কুরসিয়ার পরিবার জমি বিক্রি করে অর্থ সহায়তা দেয়। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পরবর্তীতে কুরসিয়ার বড় ভাই কবির হোসেন আরও অর্থ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের দাবি, সাব্বিরের বড় ভাইয়ের প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে তার পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। শুক্রবার রাতেও এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে কুরসিয়া ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে তাকে খুঁজতে বের হন সাব্বির এবং হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ।
রাত ১টার দিকে কুরসিয়ার শ্বশুর আব্দুল মান্নান মোবাইল ফোনে তার বাবাকে মেয়ের ‘গলায় ফাঁস দেওয়ার’ খবর জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ঘটনার পর থেকেই স্বামী সাব্বির মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। দম্পতির তিন বছর বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
নিহতের বড় ভাই কবির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোন আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। সাব্বিরের সঙ্গে তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে আমার বোনকে প্রায়ই মারধর করা হতো। ঘটনার দিনও তাকে মারধরের পর হত্যা করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।”
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম জানান, “শনিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”