প্রকাশকালঃ ৫ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১১:৩৬ সময়

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের নান্টাকেট দ্বীপের উপকূলে নিখোঁজ হওয়া একটি মেডিকেল পরিবহন বিমানের ছয় আরোহীই নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিমান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বারমুডা থেকে বোস্টনের উদ্দেশে যাত্রা করা বিমানটির সঙ্গে শনিবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। পরে নান্টাকেটের উপকূলে ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়ার পর জীবিতদের উদ্ধারে তল্লাশি চালায় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। রোববার সন্ধ্যায় জীবিতদের সন্ধানে অভিযান শেষ করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স জানিয়েছে, বিমানে থাকা তাদের চার কর্মী, একজন রোগী ও রোগীর এক স্বজনের কেউ বেঁচে নেই বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের পরিবার, স্বজন ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিমানটি ছিল গালফস্ট্রিম জি-১০০। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১টার পর ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। এর আগে সমুদ্রপথে বিমানটির ধ্বংসাবশেষের একটি এলাকা শনাক্ত করা হয় এবং পরে সেগুলো নিখোঁজ বিমানটির অংশ বলে নিশ্চিত করা হয়।
ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি শুক্রবার রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। স্থানীয় সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল। বিমানে চারজন কানাডীয় ও দুজন বারমুডিয়ান নাগরিক ছিলেন।
ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ফ্লাইট অপারেশনস পরিচালক ক্লারেন্স টোগেরেটজ জানান, একজন রোগী ও তার স্বজনকে কানাডায় ফিরিয়ে নিতে দুই পাইলট ও দুই চিকিৎসাকর্মী বারমুডায় গিয়েছিলেন।
বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে এর উচ্চতা দ্রুত কমে যায়। ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি নেমে আসে ১১ হাজার ফুটে।
এদিকে, যোগাযোগের সময় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার ও পাইলটের মধ্যে কথোপকথনে সমস্যা হচ্ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। একপর্যায়ে পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন বলেও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকক্ষের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্স জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ ও তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের অনুমান বা মন্তব্য না করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।