প্রকাশকালঃ ৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকাল ৭:০২ সময়

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর তিন দিন ধরে হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় রয়েছেন ক্রিস্টা পাইক। বর্তমানে ন্যাশভিলের একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে তাকে।
শুক্রবার আদালতে দাখিল করা নথিতে ক্রিস্টার আইনজীবীরা জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় পেন্টোবারবিটালের দুটি ডোজ প্রয়োগ করা হলেও তার মৃত্যু হয়নি। পরে তাকে ইনটিউবেট করে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। ওষুধের গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি তার দুই হাতে পাওয়া আঘাতেরও চিকিৎসা চলছে।
ক্রিস্টার আইনজীবীরা জরুরি পিটিশন দিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার সব প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসকে নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে দ্রুত শুনানিরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
১৯৯৫ সালে ১৯ বছর বয়সী কলিন স্লেমারকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন ক্রিস্টা পাইক। তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে গত প্রায় ২০০ বছরের মধ্যে টেনেসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া প্রথম নারী হতেন তিনি।
ঘটনার পর টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছর অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত সব মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করেছেন। বুধবারের ঘটনায় কোথায় ভুল হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে বিস্তৃত পর্যালোচনার শর্তে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে টেনেসি ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনসের দাবি, ক্রিস্টার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় অনুমোদিত প্রোটোকলের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করা হয়েছে। অন্যদিকে তার আইনজীবীরা প্রোটোকল নিয়ে প্রশ্ন তুলে সাজা কমানোর দাবি জানিয়েছেন।
ক্রিস্টার আইনজীবী র্যান্ডি স্পিভি অভিযোগ করেন, শিরায় ওষুধ পৌঁছাতে সমস্যা, শিরা ফেটে যাওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ঘাটতিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিয়েছিল। অপর আইনজীবী স্টিফেন ফেরেল বলেন, ক্রিস্টার আশঙ্কা ছিল দীর্ঘায়িত ও যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যুর; মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত সেই পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বিরল। এর আগে ১৯৪৬ সালে লুইজিয়ানায় ইলেকট্রিক চেয়ারে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উইলি ফ্রান্সিস বেঁচে যান। ২০০৯ সালে ওহাইওতে রোমেল ব্রুমের ক্ষেত্রেও শিরা খুঁজে না পাওয়ায় প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ক্রিস্টা পাইকের ঘটনা এসব ঘটনার চেয়ে আলাদা বলে মনে করছেন আমহার্স্ট কলেজের অধ্যাপক অস্টিন সারাত। তার মতে, ক্রিস্টার ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ওষুধ শরীরে প্রবেশ করার পরও মৃত্যু না হওয়ায় এটি একটি নজিরবিহীন আইনি ও চিকিৎসাগত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
এদিকে ডিসেম্বরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল গ্যারি সাটনেরও। ক্রিস্টা পাইকের ঘটনার পর তার মৃত্যুদণ্ডও স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ক্রিস্টা পাইকের চিকিৎসাগত অবস্থা এবং তার মৃত্যুদণ্ডের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া—দুই বিষয়ই এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।