প্রকাশকালঃ ১২ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ২:১০ সময়

বাংলাদেশের শীর্ষ ভারোত্তোলকদের একজন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ডোপ টেস্টে পজিটিভ হওয়ায় দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছেন। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশন (সারাদো) ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সির (ওয়াদা) কোড অনুযায়ী এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে নেওয়া ডোপ টেস্ট থেকে। সেখানে মাবিয়ার নমুনায় ‘ডাইইউরেটিক্স’ নামের একটি নিষিদ্ধ পদার্থের উপস্থিতি ধরা পড়ে। এই ধরনের ওষুধ শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও লবণ বের করে দ্রুত ওজন কমাতে সাহায্য করে। তবে খেলাধুলায় এটি নিষিদ্ধ, কারণ এটি অন্য নিষিদ্ধ উপাদান গোপন করতেও ব্যবহৃত হতে পারে।
নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় গত বৃহস্পতিবার, যার ফলে আগামী দুই বছর আন্তর্জাতিকসহ সব প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলা থেকে দূরে থাকতে হবে তাকে।
তবে এই শাস্তিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন মাবিয়া। তার দাবি, অসুস্থতার কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করেছিলেন এবং সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিতও করেছিলেন। তার কথায়, খেলোয়াড়দের সবসময় প্রেসক্রিপশন রাখার কথা বলা হলেও এর বাইরে বিস্তারিত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার কাছে সব প্রেসক্রিপশন রয়েছে এবং তিনি তা কর্তৃপক্ষকে দেখিয়েছেন।
অন্যদিকে প্রেসক্রিপশন না দেখানোর অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে মাবিয়া জানান, তিনি যথাযথভাবে সব কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ রয়েছে। যদিও প্রক্রিয়া সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন, তবুও ১৪ দিনের মধ্যে আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
মাদারীপুর থেকে উঠে আসা এই ভারোত্তোলকের ক্যারিয়ার ছিল সংগ্রামমুখর। ২০১৬ সালে সাউথ এশিয়া গেমস ২০১৬-এ স্বর্ণ জয়ের মাধ্যমে নিজেকে তুলে ধরেন তিনি। এরপর ২০১৯ সালের সাউথ এশিয়া গেমস ২০১৯-এও স্বর্ণ জিতে টানা দুই আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেন।
বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী এই ক্রীড়াবিদের জন্য দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন তার নজর আপিলের দিকে—সেখানে তিনি শাস্তি কমাতে পারেন কি না, সেটিই দেখার বিষয়।