প্রকাশকালঃ ৪ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১:২৭ সময়

রোনান সুলিভানের ডান পায়ের শট ভারত গোলরক্ষক সুরাজ সিংকে পরাস্ত করে চলে যায় জালে। মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ওঠে গর্জন। সবুজ গালিচায় লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে মিঠু চৌধুরী-চন্দন রয়দের উচ্ছ্বাস। বাংলাদেশের যুবাদের এই উচ্ছ্বাস ভারতকে হারানোর। অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের। গতকাল মালদ্বীপের মালেতে অনুষ্ঠিত বয়সভিত্তিক এই সাফে টাইব্রেকারে ভারতকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে খেলা গোলশূন্য ড্র হয়। এরপর টাইব্রেকারে নিষ্পত্তি হয় ফাইনালের। ২০২৪ সালেও অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ট্রফি জিতেছিল লাল-সবুজের দলটি।
কেউ এসেছেন টাইগার সেজে। কারও গালে আঁকা লাল-সবুজের পতাকা। শুক্রবার মালদ্বীপের মালে স্টেডিয়ামে নানা রূপ ধারণ করে গ্যালারিতে আসেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে প্রিয় বাংলাদেশকে সমর্থন দিতে দুপুর থেকেই ছিল দর্শকদের দীর্ঘ লাইন। টিকিটের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা তাদের। কেউ ‘সোনার হরিণ’খ্যাত টিকিট হাতে পেয়েছেন, কেউ টিকিট না পেয়ে হতাশ হয়ে চলে যান। মালের মাত্র ১২ হাজার ধারণক্ষমতার গ্যালারির পুরোটাই বলতে গেলে বাংলাদেশিদের দখলে ছিল। ভারতের বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ে রোনান সুলিভান-নাজমুল হুদা ফয়সালদের নাম ধরে স্লোগান দিতে থাকেন বাংলাদেশের সমর্থকরা। দর্শকদের উৎসাহে সবুজ গালিচায় অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে মার্ক কক্সের দল।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে গোলশূন্য ড্রয়ের পর পেনাল্টি শুট আউটে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ক গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। ভারতের রিশি সিংয়ের নেওয়া প্রথম শটটি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন তিনি। এরপর মুর্শেদ আলীর শট ভারত গোলরক্ষককে পরাভূত করলে আত্মবিশ্বাসটা বেড়ে যায় বাংলাদেশ শিবিরে। পরের তিনটি শটে ভারত গোল করলেও বাংলাদেশের স্যামুয়েল রাকসামের নেওয়া চতুর্থ শটটি ক্রসবারে লাগে। তাঁর আগে গোল করেন চন্দন রয় ও আব্দুল রিয়াদ ফাহিম। তবে ভারতের হয়ে পঞ্চম শট নিতে আসা ওমাং দুদোম ক্রসবারের ওপর দিয়ে বল মারলে ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো গ্যালারি।
এরপর যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রোনান সুলিভানের দিকে চোখ যায় সবার। একেবারে ঠান্ডা মাথায় পানেনেকা শটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বিপরীত দিকে ফেলে দিয়ে গোল করেন পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা রোনান। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর পুরো বাংলাদেশ দল বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে। ট্রফি জয়ের আনন্দে সহকারী কোচ বিপ্লভ ভট্টাচার্যকে ধরে কান্না শুরু করেন গোলরক্ষক মাহিন। টুর্নামেন্ট সেরা গোলরক্ষক হয়েছেন তিনি। একটু পর লাল-সবুজের পতাকা হাতে নিয়ে গ্যালারিতে গিয়ে দর্শকদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠেন ডেকলান সুলিভান-মুর্শেদ আলীরা।
ট্রফি ধরে রাখার লড়াইয়ে এবার প্রতিপক্ষ ভারত বলেই ফাইনাল নিয়ে উত্তাপ ছিল বেশি। বয়সভিত্তিক সাফগুলোতে এই ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে পড়লে কেন যেন খেই হারিয়ে ফেলে লাল-সবুজের দলটি। গতকাল অতীতকে বদলে দেওয়ার পণ করে নামে বাংলাদেশ। দারুণ পারফরম্যান্সে তাতে সফলও হয় মার্ক কক্সের দল।
বল পজিশন এবং আক্রমণে প্রথমার্ধে ছিল বাংলাদেশের দাপট। কিন্তু গোল পাচ্ছিল না। বিরতির পর কোনো দলই গোল করতে পারেনি। এর মধ্যে ৬৬ মিনিটে নাজমুল হুদার পরিবর্তে ডেকলান সুলিভানকে নামান মার্ক কক্স। টাইব্রেকারের কথা মাথায় রেখে ৮০ মিনিটে মানিককে তুলে নিয়ে স্যামুয়েল রাকসামকে নামান কোচ। তাতে সফল হন তিনি। আর বাংলাদেশের যুবারা ট্রফি নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন।