বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০১:২৭:৪৯ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান •       • পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে •       • চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •       • নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •       • কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি টুটুল গ্রেপ্তার •       • মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী •       • বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন •       • মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার •       • মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •

কর বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব: প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

কর বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব: প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

ঢাকা প্রেস নিউজ

 

গত তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের আয়-ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বৃদ্ধি করায় সাধারণ মানুষের জীবনে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ বলেই মনে করছেন অনেকেই।
 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণে ১২ হাজার ২৭০ কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যেই সরকার মূলত রিগ্রেসিভ করব্যবস্থার দিকে ঝুঁকেছে।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৪.৮০ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার ৬৩ শতাংশই পরোক্ষ কর, যেমন ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক থেকে আদায় হবে।
 

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ডিস্টিংগুইশড ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত প্রগ্রেসিভ করব্যবস্থার মূলনীতির পরিপন্থি। এই চাপ সাধারণ মানুষের ওপর আরও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হবে।
 

করপ্রগ্রেসিভ করব্যবস্থার লক্ষ্য ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর সংগ্রহ করে আয় বৈষম্য কমানো। অথচ বর্তমান কর বৃদ্ধির ধারা রিগ্রেসিভ হয়ে গেছে, যা নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য আরও কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করছে। মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, আয়কর বৃদ্ধি এবং কর ফাঁকি রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল।

 

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে ভ্যাট বৃদ্ধির ফলে আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় অনেক বেড়েছে। উদাহরণ হিসেবে, একসময় আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি ডলারে ৮৬ টাকা ছিল এবং ভ্যাট ছিল ৭.৫ শতাংশ। এখন ডলারের মূল্য ১২০ টাকা এবং ভ্যাট ১৫ শতাংশ। ফলে চাপ দ্বিগুণ বেড়েছে।

 

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, অর্থবছরের মাঝখানে কর বৃদ্ধি নিম্ন আয়ের মানুষ ও ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ আরও বাড়াবে। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে নেওয়া মোটেই সমীচীন হয়নি।

 

তবে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে জনসাধারণের ওপর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না। এখন সময়ই বলে দেবে, এই দাবি কতটা সত্য।

 

কর বৃদ্ধির কারণে ইন্টারনেট সেবা, মোবাইলফোনে কথা বলা, হোটেল-রেস্তোরাঁ সেবা, কোমল পানীয়, ওষুধ, এলপি গ্যাস, ফলের রস, বিস্কুট, সিগারেটসহ শতাধিক পণ্য ও সেবার ব্যয় বেড়ে গেছে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
 

সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে প্রগ্রেসিভ করব্যবস্থার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই। কিন্তু বর্তমান করনীতির ফলে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এটি নীতিগতভাবে কতটা সঠিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।