বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ এ ০৪:৩১:১১ এএম (বাংলাদেশ সময়)
ব্রেকিং নিউজ:
• স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি ডা. জুবাইদা রহমানের আহ্বান •       • পটিয়ায় আবারও অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পুলিশ হেফাজতে •       • চার দিনের সফরে আজ রাতে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান •       • নরসিংদীতে বাসার গ্রিল কেটে ৫০ লাখ টাকা ও ৮ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি •       • কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি টুটুল গ্রেপ্তার •       • মাদরাসায় বলাৎকার ও অশালীন ঘটনা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার: ধর্মমন্ত্রী •       • বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন •       • মাদারগঞ্জে গাছে মরিচ আসতেই অজানা মড়ক: লোকসানের মুখে কৃষকরা, দেখা মেলেনি কৃষি কর্মকর্তার •       • মুরাদনগরে সাবেক মেম্বারের বসতঘরে পেট্রোল ঢেলে অগ্নিসংযোগ, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি •       • রাজধানীতে বিশেষ অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫৩৪, মামলা ৩৭ •

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ ডাকঘর কার্যক্রম

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকিপূর্ণ ডাকঘর কার্যক্রম

ঢাকা প্রেস
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-


কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ৪৩ বছর ধরে অরক্ষিত এবং জরাজীর্ণ ভবনে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম। ভবনটি এখন এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে সেটি দেখে পরিত্যক্ত ভূতুড়ে বাড়ি বলেই মনে হয়। কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখান থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

১৯৮১ সালের ৪ নভেম্বর তৎকালীন ডাক, তার ও টেলিফোন মন্ত্রী এ. কে. এম. মাইদুল ইসলাম এই ভবনটি সাব-পোস্ট অফিস হিসেবে উদ্বোধন করেন। উপজেলার কলেজমোড় এলাকায় ২১ শতাংশ জমির ওপর পাঁচ কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ভবনটি কোনো সংস্কার পায়নি।
 

ভবনের বাইরের দেয়ালে শেওলা জমে গেছে, ভেতরে বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়েছে। অফিসের কার্যক্রম কোনোভাবে সামনের একটি কক্ষে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। বাকি কক্ষগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শৌচাগারটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত এবং দরজা ঠেস দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে। পোস্ট মাস্টারের জন্য নির্ধারিত আবাসিক অংশটিও ব্যবহারের অনুপযোগী।
 

দপ্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল যে প্রতিদিন কার্যক্রম শেষে মূল্যবান কাগজপত্র, স্ট্যাম্প এবং নগদ অর্থ স্থানীয় থানায় জমা রাখতে হয়। পরদিন সেগুলো ফেরত এনে কার্যক্রম শুরু করা হয়।
 

ডাকঘরে কর্মরত ছয়জন কর্মকর্তা-কর্মচারী—পোস্ট মাস্টার, একজন অপারেটর, একজন প্যাকার, একজন রানার এবং একজন ইবি নৈশপ্রহরী—জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
 

এলাকাবাসী মিজানুর রহমান, সবুজ, আলমগীর এবং আরাফাত জানান, উপজেলায় বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন হলেও ডাকঘরটির কোনো উন্নতি হয়নি। জরাজীর্ণ এই ভবনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে।
 

পোস্ট মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, "আমরা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কাজ করছি। ভবন সংস্কারের জন্য উপরে জানিয়েছি, তবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাইনি।"
 

এমতাবস্থায়, ডাকঘর ভবনটি দ্রুত সংস্কার করার দাবি জানিয়েছেন ডাক বিভাগের কর্মী ও এলাকাবাসী। আধুনিক প্রযুক্তি ও সেবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ ভবনটিকে সংস্কার করা না হলে কার্যক্রম পরিচালনা এবং সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে থাকবে।