প্রকাশকালঃ ১১ জুলাই ২০২৬, বিকাল ৬:৪৬ সময়

ডেস্ক নিউজ, ঢাকা প্রেস:
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাকে দ্রুত দেশে ফিরে এসে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।
শনিবার (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করেছিল। বর্তমান সরকারও একই উদ্যোগ নিয়েছে এবং তাকে আইনের আওতায় এনে বিচার করার কথা বলছে। একই সময়ে শেখ হাসিনাও দেশে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানা গেছে।
আসিফ নজরুল লেখেন, যদি সত্যিই দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাহলে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। তিনি শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি এখনই দেশে ফিরে আসুন।”
তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষের প্রাণহানি, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, ‘আয়নাঘর’, দুর্নীতি, অর্থ পাচার এবং দীর্ঘ সময় দেশের জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত থাকার মতো বিভিন্ন বিষয়ে শেখ হাসিনার ব্যাখ্যা জনগণ ও আদালতের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে পাঠিয়ে দিলেও আওয়ামী লীগের অসংখ্য সাধারণ নেতা-কর্মী রাজনৈতিক ও আইনি পরিণতির মুখোমুখি হয়েছেন। তাদের অনেকেই এখনও বিভিন্ন মামলার আসামি বা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
এ কারণে শেখ হাসিনাকে আর বিলম্ব না করে দেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হওয়ার আহ্বান জানান আসিফ নজরুল। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যদি দেশে ফেরার বাস্তব কোনো পরিকল্পনা না থাকে, তাহলে বারবার ফেরার ঘোষণা দিয়ে দলের সাধারণ নেতা-কর্মীদের বিভ্রান্ত বা অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত নয়।
এর আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা দাবি করেন, তিনি ও তার দলের পলাতক নেতাকর্মীরা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। তিনি আত্মসমর্পণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর থেকেই শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও, এবার প্রথমবারের মতো তিনি একটি সম্ভাব্য সময়সীমার কথা উল্লেখ করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।