প্রকাশকালঃ ১৩ মে ২০২৬, দুপুর ১:০৮ সময়

দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচিতে কোনো ঘাটতি রাখা হবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার সরকারি ভ্যাকসিনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
টিকা নিয়ে অতীতে কোনো অব্যবস্থাপনা হয়েছে কি না বা তদন্ত করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘কে দোষ করেছে সেটা খোঁজার আগে আমাদের মায়েদের বুক ভরা রাখতে হবে।’
মন্ত্রী জানান, শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং টিকাদান কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, হামের পরবর্তী জটিলতা হিসেবে অনেক শিশুর নিউমোনিয়া দেখা দিচ্ছে, যার কারণে ভেন্টিলেশন প্রয়োজন হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন সুবিধা নিশ্চিত করেছে। এছাড়া একজন বেসরকারি উদ্যোক্তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনুদান হিসেবে ১০টি নতুন ভেন্টিলেটর পাওয়া গেছে, যা দ্রুত বিভিন্ন হাসপাতালে বিতরণ করা হবে। বর্তমানে আইসোলেশন ও আইসিইউ সেবা সচল রয়েছে বলেও তিনি জানান।
টিকা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের হাতে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ রয়েছে। সম্প্রতি চীনা কোম্পানি সিনোভ্যাক থেকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৮০ ডোজ (৭৬ হাজার ৬১৬ ভায়াল) টিকা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পোলিও ও অ্যান্টির্যাবিস টিকাদান কার্যক্রমও পুরোদমে চলবে।
তিনি আরও জানান, ভিটামিন-এ ক্যাপসুলের সাময়িক ঘাটতি দ্রুতই পূরণ হবে। আগামী জুনের মধ্যেই পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং নিয়মিত ইপিআই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যেসব শিশু এখনো টিকার আওতার বাইরে রয়েছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে দেশ একটি সংকটকাল অতিক্রম করছে। জরুরি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে টিকা ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা ঘাটতি ছিল কি না, সে বিষয়ে পরবর্তীতে কেন্দ্রীয়ভাবে তদন্ত করা হবে।