প্রকাশকালঃ ৯ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১:১১ সময়

💫 ইয়াবা, গাঁজা ও নগদ অর্থ উদ্ধার।
💫 সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয়তায় স্থানীয়দের উদ্বেগ।
রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মুরাদনগরে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে দুই নারী মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। উপজেলার নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়নের পৈয়াপাথর এলাকা মাদক বেচাকেনার ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মুরাদনগর থানা পুলিশের একটি দল পৈয়াপাথর এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিরস্ত্র) মো. আবদুল্লাহ আল মাসুদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এসআই রাজু বড়ুয়া ও এএসআই কুসুম বড়ুয়া।
অভিযানকালে একটি টিনশেড ঘরের সামনে থেকে সেলিনা আক্তার (২৯) ও সোনিয়া আক্তার (২২) নামে দুই নারীকে আটক করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে নারী কনস্টেবলের সহায়তায় তাদের আটক করা হয়।
তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে ১৪৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২০ গ্রাম গাঁজা এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৯ হাজার ৬৮০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এসব আলামত একটি সক্রিয় সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের কার্যক্রমের ইঙ্গিত বহন করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তারা পলাতক মাদক ব্যবসায়ী শাহ আলম (৪০)-এর কাছ থেকে কম দামে ইয়াবা ও গাঁজা সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ রেখেছিল। এ ঘটনায় শাহ আলমকে চক্রের মূল হোতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে, তবে তিনি এখনো পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৈয়াপাথরসহ আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার একটি নীরব কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও চক্রটি পুরোপুরি নির্মূল হচ্ছে না; বরং নতুন কৌশলে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠছে। এতে শিশু ও কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসরুরুল হক বলেন, মুরাদনগরকে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটক দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, “শুধু খুচরা বিক্রেতা নয়, মাদকের মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”