প্রকাশকালঃ ৭ এপ্রিল ২০২৬, বিকাল ৬:৪৭ সময়

নিউজ ডেস্ক-ঢাকা প্রেস:
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। আগামী ৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিএনপি জোট, যেখানে ৩৬টি আসন নিয়ে শুরু হয়েছে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সংসদে আসনসংখ্যার ভিত্তিতে দলগুলো সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেবে। সে হিসেবে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত জোট ১৩টি এবং একটি আসন স্বতন্ত্রদের জন্য বরাদ্দ থাকবে।
বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, কেন্দ্রীয় নেত্রী শাম্মী আক্তার, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি এবং রেহেনা আক্তার রানুর নাম আলোচনায় রয়েছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক নির্বাচনে অংশ নেওয়া ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও নাদিরা চৌধুরীও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রয়েছেন।
সাংস্কৃতিক অঙ্গন থেকে কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনসহ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ এবং প্রয়াত নেতা আবদুস সালাম তালুকদারের মেয়ে ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনির নামও সম্ভাব্য তালিকায় ঘুরপাক খাচ্ছে।
এছাড়া রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি হিসেবে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী, সাবরিনা খান এবং খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।
দলীয় রাজনীতির তৃণমূল থেকে উঠে আসা এবং পেশাজীবী অঙ্গনের একাধিক নারী নেত্রীও মনোনয়ন দৌড়ে রয়েছেন। এদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, খায়রুন নাহার ও মাহমুদা হাবিবার নাম উল্লেখযোগ্য।
একই সঙ্গে অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, ফাহিমা নাসরিন মুন্নী, নাসিমা আক্তার কল্পনা, সাবরিনা শুভ্র, মাহারীন খান এবং বীথিকা বিনতে হোসাইনকে নিয়েও দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
শিক্ষা ও পেশাজীবী ক্ষেত্র থেকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে অধ্যাপক নাজমা সুলতানা ঝংকার, অধ্যাপক তাজমেরি ইসলাম, অধ্যাপক তাহমিনা বেগম, ড. নাহারিন খান, ডা. সৈয়দা তাজনিন ওয়াইরিস সিমকি, সাংবাদিক কাজী জেসিন, ফাতেমা বিনতে দোহা ও ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আক্তারের নাম।
মনোনয়নপ্রত্যাশীদের বক্তব্যে ত্যাগ, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। দলীয় সূত্র জানায়, তৃণমূলের অবদান, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জনসম্পৃক্ততা ও গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ৩৬ জন নির্ধারণ করা হবে।
ফলে শেষ পর্যন্ত কারা বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন পাচ্ছেন—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন চলছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা।