প্রকাশকালঃ ৭ এপ্রিল ২০২৬, বিকাল ৫:৩৪ সময়

বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসেন বলে সংসদের বৈঠকে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধসহ তিনটি আন্দোলনের ট্রফি বিএনপির ঘরে বলে দাবি করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট, তিনটি আন্দোলনের ট্রফিই বিএনপির ঘরে। এরকম ট্রফি শুধু বিএনপির ঘরে, অন্য কোনো রাজনৈতিক দল দেখাতে পারবে না। আওয়ামী লীগ ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে কিন্তু জুলাই-আগস্টের ট্রফি তাদের ঘরে নাই। বিরোধী দলের বন্ধুরা জুলাই-আগস্ট বলতে পারবে কিন্তু ৭১ ও ৯০ বলতে পারবে না। এসময় বিরোধী দলীয় নেতারা হৈ-চৈ করে উঠলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল হৈ-চৈ করতে পারেন কিন্তু তারা নব্বইয়ের কথা বলতে পারেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে ডাক-ঢোল পিটিয়ে তারাই আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচনে গিয়েছিল, বিএনপি যায়নি। তিনি বলেন, এনসিপির এক নেতা বাইরে বলেছিলেন জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতা খেলেছে, আর ট্রফি বিএনপি নিয়েছে।
এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে সবাই ছিল। বিএনপি ট্রফি কারও কাছে নিতে যায়নি। ক্যাপ্টেন কে? সেটা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস চিনেন। এ কারণে তিনি লন্ডনে গিয়ে আন্দোলনের ক্যাপ্টেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসেন। এতে প্রমাণিত হয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বে মূল ভূমিকা কোন দলের ছিল, কোন নেতার ছিল, সবাই আন্দোলন করেছে- এটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই। কিন্তু ক্যাপ্টেন একজনই থাকেন, সে ক্যাপ্টেনের কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসছেন বলেই এ দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ্য করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা স্পিকারকে দেখলে এখানে অনেকের ভালো লাগবে, কারও কারও ভালো লাগবে না। কিন্তু স্পিকার ১৯৭১ সালকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এই সফলতা বিএনপির কারণ স্বাধীনতার ঘোষক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান।
সরকারি দলের বেঞ্চে অনেক মুক্তিযোদ্ধা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, এমন নজির বিরোধী দলের বেঞ্চের মধ্যে খুঁজে পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। এ সময় বিরোধী দলের সদস্যরা হৈ চৈ করে উঠেন। তখন স্পিকার বলেন, বিরোধী দলের বেঞ্চেও মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন। তিনি নিজেও রণাঙ্গণে দেখেছেন, জামায়াত দলীয় সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম (সাতক্ষীরা-৩) একজন মুক্তিযোদ্ধা।
বিরোধী দলকে উদ্দেশ্যে করে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গে আন্দোলন করেছে ঠিকই। কিন্তু ২০১৪ সালের পরে আপনাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘদিন একসঙ্গে ছিলাম। এক অপরকে কিন্তু বহুভাবে চিনি। একই মিটিংয়ে বসে আন্দোলন, লড়াই করেছি, সমাবেশ করেছি। কিন্তু কোন এক অজানা কারণে আপনারা গুপ্ত হয়ে জুলাই-আগস্টের পরে প্রকাশ্য এসে জাতির সামনে বারবার জুলাই-আগস্টকে ধারণের কথা বলে ভুল বুঝাতে চাচ্ছেন। জুলাই-আগস্টকে বিরোধী দল এমনভাবে ধারণ করতে চায় মনে হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি, নব্বইয়ের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন হয়নি। যদিও ২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে বর্তমান বিরোধী দলের নেতা শফিকুর রহমানসহ জামায়াতের নেতারা বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে ফ্লোর নিয়ে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, অসংখ্য অসত্য তথ্য এখানে এসেছে। দুই একটার প্রতিবাদ আপনি (স্পিকার) নিজেও করেছেন। অসত্য কোনো তথ্য যাতে সংসদে কেউ পরিবেশন না করেন।
পরে স্পিকার বলেন, আমি বক্তব্য পরীক্ষা করে দেখব। সেখানে কোনো অসংসদীয় এবং অসত্য তথ্য থাকলে এক্সপাঞ্চ করা হবে।