প্রকাশকালঃ ১১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ৩:১১ সময়

স্বাস্থ্য ডেস্ক :
প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস বা স্মুদি পান করলে শুধু শরীরের পুষ্টি চাহিদাই পূরণ হয় না, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। নতুন এক গবেষণায় ফলের রস বা স্মুদি পান এবং বিষণ্ণতার মাত্রা কম থাকার মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
গবেষকদের মতে, ফল ও সবজিতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ, আঁশ ও উদ্ভিজ্জ উপাদান শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ফল ও সবজি কম খান, তাদের খাদ্যতালিকায় ফলের রস বা স্মুদি যোগ করা ফল গ্রহণ বাড়ানোর সহজ একটি উপায় হতে পারে।
নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের চার সপ্তাহের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ফল ও সবজি খাওয়ার পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিদিন এক গ্লাস ফলের রস বা স্মুদি পান করেছেন, তাদের বিষণ্ণতার মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
ফল ও সবজির বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত ফল গ্রহণ মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে। এর আগে কিছু গবেষণায় সাইট্রাস বা লেবুজাতীয় ফলের রসের সঙ্গে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ও চিন্তাশক্তির উন্নতির সম্ভাব্য সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ফলের রস পান করলেই বিষণ্ণতা দূর হবে—এমন দাবি করা ঠিক নয়। মানসিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত আস্ত ফল খেতে না পারা ব্যক্তিদের জন্য ১০০ শতাংশ ফলের রস বা স্মুদি খাদ্যতালিকায় ফল যুক্ত করার সহজ উপায় হতে পারে। তবে আস্ত ফলের উপকারও আলাদা। এতে তুলনামূলকভাবে বেশি আঁশ থাকে, যা হজমে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
ফল ও সবজি নিয়মিত খেলে দৈনিক আঁশ গ্রহণও বাড়ে। আঁশ হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে এবং নিয়মিত পেট পরিষ্কারে সহায়ক।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস হৃদযন্ত্রের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়ার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কম থাকার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ফলের রসে থাকা বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদানও শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।
তবে অতিরিক্ত চিনি বা কৃত্রিম মিষ্টি মেশানো ফলের পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাজার থেকে ফলের রস কেনার ক্ষেত্রে সেটি ১০০ শতাংশ ফলের রস কি না এবং এতে বাড়তি চিনি রয়েছে কি না, তা দেখে নেওয়া উচিত।
ফলের রস উপকারী হলেও অতিরিক্ত পান করার প্রয়োজন নেই। পরিমিত পরিমাণে ১০০ শতাংশ ফলের রস বা স্মুদি গ্রহণ করা যেতে পারে। এতে আলাদা করে চিনি, সিরাপ বা অতিরিক্ত মিষ্টি উপাদান না মেশানোই ভালো।
তবে বিষণ্ণতা বা দীর্ঘদিনের মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য ফলের রস কোনোভাবেই চিকিৎসার বিকল্প নয়। এ ধরনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ফল ও সবজির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি পরিমিত ১০০ শতাংশ ফলের রস বা স্মুদি রাখা শরীর ও মনের সুস্থতার জন্য সহায়ক একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।