প্রকাশকালঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৭ সময়

শুক্রবার রাতে নাজু আক্তারের ছোট ভাই মো. শুভ বাদী হয়ে নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন নাজু আক্তারকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঢুকিয়ালী নদীর পাড় থেকে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজু আক্তার নিখোঁজ হন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে মঙ্গলবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর ভাই শুভ। তদন্তের একপর্যায়ে নুরুল আমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন জানান, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কীটনাশক কিনতে জেলা শহরে যাওয়ার সময় নাজু তাঁকে ফোন করেন। পরে বড়বাজার এলাকায় তাঁদের দেখা হয়। একপর্যায়ে নাজু তাঁর মুঠোফোন নিয়ে নিলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নাজুকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় রাজুর বাজার এবং সেখান থেকে মোটরসাইকেলে মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান তিনি।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে টাকা নিয়ে আবারও তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় নুরুল আমিন নাজুর বুকে আঘাত করেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। পরে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে তাঁর জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর মরদেহ কাঁধে করে বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
নাজু আক্তার নেত্রকোনা পৌরসভার কাটলী গ্রামের মো. ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। নুরুল আমিনের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার নগুয়া কুশলগাঁও গ্রামে। প্রায় ১৪ বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে একাধিকবার বিচ্ছেদ হলেও পরে তাঁরা আবার একসঙ্গে বসবাস করেন। নাজুর করা ভরণপোষণ ও ধর্ষণের একটি মামলা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, নাজু আক্তারের সাবেক স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।