প্রকাশকালঃ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৫৭ সময়

অনলাইন ডেস্ক
ব্যস্ত জীবনে সময় ও শ্রম বাঁচাতে প্যাকেটজাত নুডলস, চিপস, বিস্কুট, কেক, কোমল পানীয় ও বিভিন্ন ইনস্ট্যান্ট খাবারের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। সহজলভ্যতা ও দ্রুত খাওয়ার সুবিধার কারণে এসব খাবার অনেকের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে নিয়মিত ও অতিরিক্ত অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের সঙ্গে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে গবেষণায়।
সম্প্রতি ‘ফ্যামিলি মেডিসিন অ্যান্ড কমিউনিটি হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও ওশেনিয়ার ৫১টি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এসব গবেষণায় অংশ নিয়েছেন ৮৮ লাখের বেশি মানুষ।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের বেশি গ্রহণের সঙ্গে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যান্সার, স্থূলতা, ডায়াবেটিস, বিষণ্নতা ও পরিপাকতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ার সম্পর্ক রয়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ গ্রাম অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি ১৪ শতাংশ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি ১১ শতাংশ বাড়ার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে গবেষণাটি মূলত সম্পর্কের কথা বলছে; সব ক্ষেত্রে সরাসরি কারণ-ফল সম্পর্ক নিশ্চিত করা হয়নি।
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোর অন্যতম সহজ উপায় হলো দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় তাজা ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ বাড়ানো। ভাত, রুটি, ডাল, শাকসবজি, মাছ, ডিম, মাংস, দুধ, ফল, বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
বাড়িতে রান্না করা খাবারকে অগ্রাধিকার দিলে খাবারে লবণ, চিনি ও তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও সহজ হয়।
প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে এর উপাদান ও পুষ্টিগুণের তথ্য দেখে নেওয়ার অভ্যাস করা জরুরি। খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও চর্বি রয়েছে কি না, তা খেয়াল করতে হবে।
শুধু ‘হেলদি’, ‘লো ফ্যাট’ বা ‘ন্যাচারাল’ লেখা দেখে কোনো খাবারকে স্বাস্থ্যকর ধরে নেওয়া ঠিক নয়। প্যাকেটের পেছনে থাকা উপাদানের তালিকা ও পুষ্টিগুণের তথ্যও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
ক্ষুধার সময় হাতের কাছে স্বাস্থ্যকর খাবার থাকলে অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি নির্ভরতা কমানো সহজ হয়। এ জন্য ঘরে মৌসুমি ফল, বাদাম, দই, সেদ্ধ ডিম কিংবা ঘরে তৈরি হালকা নাশতা রাখা যেতে পারে।
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার একদিনে পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের একটি বা দুটি খাবার থেকে প্যাকেটজাত খাবার কমিয়ে তার পরিবর্তে তাজা বা ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবার যোগ করা যেতে পারে।
বাইরে খাওয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম প্রক্রিয়াজাত ও সাধারণ খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
গবেষকদের মতে, অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা বিভিন্ন খাদ্য-সংযোজকের সম্মিলিত প্রভাব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। পরীক্ষাগারভিত্তিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এসব খাবারের পরিবর্তিত ভৌত গঠন অন্ত্রের অণুজীব বা গাট মাইক্রোবায়োমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এর সঙ্গে প্রদাহ ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের মতো সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে।
এ ছাড়া উচ্চ তাপমাত্রায় খাবার প্রক্রিয়াজাত করার সময় তৈরি হওয়া অ্যাক্রিলামাইড এবং চর্বি বা তেল গরম করার সময় উৎপন্ন অ্যাক্রোলিনের মতো কিছু উপাদানের সঙ্গেও হৃদরোগের ঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিমাণ কমিয়ে তাজা ও ন্যূনতম প্রক্রিয়াজাত খাবারকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া যেতে পারে। ধীরে ধীরে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা সহজ হবে।