প্রকাশকালঃ ১২ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১:৪৮ সময়

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘কূটনীতি কখনোই শেষ হয় না।’
তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সংলাপ চালিয়ে যাওয়া একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রের আচরণ। একইসঙ্গে তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে জানান, ইরান, পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পরামর্শ অব্যাহত থাকবে।
ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টার টানা বৈঠকের পর মার্কিন প্রতিনিধিদল ফিরে গেলে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার গুঞ্জন তৈরি হয়। তবে বাঘায়ির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, তেহরান এখনো সংলাপের পথ খোলা রাখতে আগ্রহী এবং বর্তমান সংকট নিরসনে আলোচনার টেবিলে থাকার পক্ষেই রয়েছে।
তিনি জানান, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মূলত জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ইরানের প্রতিনিধি দল দেশের জনগণের অধিকার ও স্বার্থ নিশ্চিত করতেই আলোচনায় সক্রিয় ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদিও কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়নি, তবুও এই আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পেরেছে বলে মনে করছে ইরান।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যে ভূমিকা রেখেছে, তা ইতিবাচকভাবে দেখছে তেহরান। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি টেকসই শান্তি কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ চলছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনার পর ইরানকে “শেষ প্রস্তাব” দিলেও তেহরান সেটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান না করে কৌশলগত অবস্থান নিয়েছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তকে ‘অযৌক্তিক’ বলা, অন্যদিকে সংলাপের দরজা খোলা রাখা—এই দ্বৈত কৌশল আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অংশ হতে পারে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের চলমান পরামর্শমূলক আলোচনা মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে নতুন কোনো দিক নির্দেশ করতে পারে।