প্রকাশকালঃ ২১ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ৪:৩৭ সময়

ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানায় মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর অবস্থান নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন ওসি মনসুর আহাম্মদ। এরই মধ্যে মার্চ ২০২৬ মাসে জামালপুর জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ত্রিশাল থানার দায়িত্বে থাকলেও এর আগে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গত ১৯ এপ্রিল জামালপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় তাকে এই সম্মাননা প্রদান করেন জেলা পুলিশ সুপার।
ত্রিশাল থানায় যোগদানের পর থেকেই মাদক, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জোরালো অভিযান পরিচালনা করছেন ওসি মনসুর আহাম্মদ। বিশেষ করে গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে শীর্ষ মাদক কারবারি আব্দুল মান্নান ও বাবুলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে ত্রিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক মামলা রয়েছে।
ওসি মনসুর আহাম্মদ বলেন, তিনি যতদিন ত্রিশালে দায়িত্ব পালন করবেন, ততদিন মাদক কারবার, সড়ক ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধ কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, মাদক তরুণ সমাজকে ধ্বংস করে—তাই এর বিস্তার রোধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
মাদক কারবারিদের সতর্ক করে তিনি বলেন, তার দায়িত্বকালীন সময়ে ত্রিশালে এসব অপরাধের কোনো স্থান নেই। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি মাদকবিরোধী অবস্থানে ছিলেন এবং পুলিশে যোগদানের পরও সেই নীতিতে অটল রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভালো কাজের ক্ষেত্রে সমালোচনা থাকলেও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক মামলার আসামি গ্রেপ্তারেও ত্রিশাল থানা সক্রিয় ভূমিকা রাখছে বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে ত্রিশালের সিনিয়র সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন বলেন, ওসি মনসুর আহাম্মদ যোগদানের পর থেকেই মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ত্রিশাল পৌরসভার সাবেক মেয়র আমিন সরকার বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান পুলিশ সুপার ও ওসি মনসুর আহাম্মদের দৃঢ় অবস্থান প্রশংসনীয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।