প্রকাশকালঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১২:২৮ সময়

দক্ষিণ চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
পটিয়ার ইন্দ্রপুল লবণ শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ চাঁনখালী খালের নাব্যতা সংকট ও পানির নিচে ডুবন্ত লোহার গার্ডারের কারণে নৌ-চলাচলে ঝুঁকি সৃষ্টি হওয়ায় দ্রুত ড্রেজিং ও প্রতিবন্ধকতা অপসারণের নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এনামুল হক।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে খালটি পরিদর্শন করে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
পরিদর্শনকালে এমপি স্থানীয় লবণ শ্রমিক, মিল মালিক ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত ড্রেজিং এবং পানির নিচে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ গার্ডার অপসারণ জরুরি।
এ সময় তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে সোমবার জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
লবণ মিল মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, নাইখাইন-খানমোহনা সংযোগস্থলে নির্মাণাধীন সেতুর নিচে ঠিকাদারের ফেলে রাখা লোহার গার্ডার ও অ্যাঙ্গেল পানির নিচে ডুবে থাকায় নৌ-চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। গত দুই মাসে এসব গার্ডারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুটি লবণবোঝাই নৌকা ডুবে যায়, এতে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান ফ্লাড ওয়াল নির্মাণ প্রকল্পে খাল থেকে উত্তোলিত মাটি অপসারণ না করায় খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে আগে যেখানে প্রতিদিন ৪০-৫০টি নৌকা চলাচল করত, বর্তমানে তা কমে ৪-৫টিতে নেমে এসেছে।
এমপি এনামুল হক বলেন, “লবণ পরিবহনে নৌপথ সবচেয়ে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই দ্রুত খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করতে হবে।”
তিনি আরও জানান, পটিয়ার ৮৬টি খালের মধ্যে ৪৫টি খাল খননের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং চাঁনখালী খাল পুনঃখনন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে।
পরিদর্শনকালে পটিয়া থানার ওসি জিয়াউল হকসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, লবণ মিল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।