প্রকাশকালঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১:১১ সময়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্বল্প সময়ে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার সংসদীয় গণতন্ত্রে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে।
রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে “জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ১৩৩টি অধ্যাদেশ” বিষয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ববর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা ছিল। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও শবে ক্বদরের দীর্ঘ ছুটির কারণে কার্যদিবস কম থাকলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস প্রচেষ্টায় এ বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, সময়ের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জাতীয় সংসদের স্পিকারের বিশেষ এখতিয়ারে বিধি অনুযায়ী বিলগুলো উত্থাপন ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, স্থায়ী কমিটি গঠিত না হওয়ায় একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ অবিকল অবস্থায় সর্বসম্মতিক্রমে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পরবর্তী অধিবেশনে বিল আকারে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলো সংশোধন, রহিত বা হেফাজতকরণের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে উত্থাপিত বিলের সংখ্যা নিয়ে বিরোধী দলের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একাধিক সংশোধনীর কারণে কিছু অধ্যাদেশ একাধিকবার সংশোধিত হলেও মূলত এগুলো একই অধ্যাদেশ। সংসদে বিল আকারে উপস্থাপনের সময় সেগুলো একত্রিত করে একটি বিল হিসেবে আনা হয়েছে, যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বিল প্রসঙ্গে বিরোধী দলের ওয়াকআউট বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ বিষয়ে সংবেদনশীল ও উদার। কিউরেটর নিয়োগ ও পদত্যাগ সংক্রান্ত বিধান আরও স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার সুযোগ রয়েছে। বিষয়টি পরবর্তী অধিবেশনে সংশোধনসহ পুনরায় উপস্থাপনের সম্ভাবনার কথাও জানান তিনি।
গুম কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইসিটি আইন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তাড়াহুড়ো করে ত্রুটিপূর্ণ আইন পাস না করে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আরও আধুনিক ও কার্যকর আইন প্রণয়নে সরকার কাজ করছে, যাতে ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পায়।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী বিরোধী দলের ওয়াকআউট করার অধিকার রয়েছে। তবে সংসদের বাইরে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার হলে তা জনগণের সামনে তুলে ধরা সরকারের দায়িত্ব। স্পিকার বিরোধী সদস্যদের দীর্ঘ সময় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন এবং তাদের আপত্তিও রিপোর্টে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।