প্রকাশকালঃ ২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ৩:৪২ সময়

অনলাইন ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজের সংসদীয় বক্তব্যে সৃষ্ট ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।
শনিবার দুপুরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দুঃখপ্রকাশের পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা এবং সংসদে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তিনি দুঃখিত।
তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো—এমন বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়েছেন এবং তাঁদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের একটি কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনাটি গণমাধ্যমে যেভাবে উপস্থাপিত হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার চেয়ে ভিন্ন ছিল বলেও দাবি করেন হাসনাত। তিনি বলেন, গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং পরে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হাসনাত আবদুল্লাহর দাবি, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি; তারা শুধু শব্দ কমানোর কথা বলেছিলেন। ফলে এ ঘটনাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার উদাহরণ হিসেবে দেখানো সঠিক নয়।
এদিকে নৌকাবাইচের ঘটনা নিয়ে নিজের বক্তব্যে তথ্যগত ভুল হয়েছিল বলেও স্বীকার করেন তিনি। তিনি বলেন, সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম উল্লেখ করেছিলেন। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং দুঃখিত।
তবে সংসদে মূল ঘটনা ও গণমাধ্যমে সেটির উপস্থাপনের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন হাসনাত। সম্পূরক প্রশ্নের সময়সীমার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

পোস্টে জুলাইয়ের আন্দোলনের আদর্শের প্রতি নিজের ও দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে হাসনাত বলেন, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখিয়েছে, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ অন্যের ওপর নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি চাপিয়ে দিতে পারবে না।
তিনি বলেন, মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকবে, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের ওপর জোর করে নিজের মতামত চাপিয়ে দিতে পারবে না। কোনো পক্ষ অন্যায়ভাবে কারও অধিকার ক্ষুণ্ন করলে তা প্রতিহত করা এবং সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
হাসনাত আরও বলেন, বাংলাদেশ সবার। এ দেশে মসজিদ, মন্দির, মাজার, সংগীত, ওয়াজ, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও চলচ্চিত্র উৎসব—সবই থাকবে। যে ব্যক্তি যে ধরনের আয়োজন পছন্দ করেন, তিনি সেখানে অংশ নেবেন; আর পছন্দ না হলে সেখানে যাবেন না। সরকারের দায়িত্ব হবে একজনের অধিকার যেন অন্য কেউ ক্ষুণ্ন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বর্তমানে সেই নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর মতে, জুলাই ছিল ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণিনির্বিশেষে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলাই সেই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সেই আদর্শের ভিত্তিতেই তাঁরা বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করছেন এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।