প্রকাশকালঃ ২৮ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:১১ সময়

নওগাঁ প্রতিনিধি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর সাতজনের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত পরিচয় শনাক্ত হওয়া নয়জনের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে। তাঁদের মধ্যে সাতজনই নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বাসিন্দা। পরে প্রশাসনের সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে নিয়ে আসা হয়।
শুক্রবার সকালে মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে আয়োজিত জানাজায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জামান, আত্রাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।
জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।
নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, নিহতদের পরিবারের সদস্যদের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকার এসব পরিবারের পাশে থাকবে। এছাড়া সৌদি আরবে থাকা নিহতদের বাকি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
সৌদি দূতাবাস থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী, পরিচয় শনাক্ত হওয়া নওগাঁর সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ময়েন উদ্দীনের ছেলে মো. ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে রুবেল প্রামাণিক, একই গ্রামের গুফফার প্রামাণিকের ছেলে মোহন আলী ও সুমন আলী এবং বজলুর রহমানের ছেলে কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের বাদল তরফদারের ছেলে সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের তমেজ উদ্দিন সরদারের ছেলে আবদুল জলিল সরদার।
রিয়াদের ওই কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে পরিচয় শনাক্ত হওয়া মরদেহ পর্যায়ক্রমে দেশে ফেরত আনা হচ্ছে।