প্রকাশকালঃ ২৮ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ৪:১৩ সময়

রয়টার্স ও এএফপি
আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে আপাতত বিদেশি সহায়তা নিতে রাজি নয় নেপাল। নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী ও উদ্ধারকারী দল দিয়েই অভিযান পরিচালনা করছে দেশটি। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজন হলে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শুক্রবার নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানান, বিভিন্ন দেশ উদ্ধার অভিযানে সহায়তার প্রস্তাব দিলেও এই মুহূর্তে তা প্রয়োজন হচ্ছে না।
তিনি বলেন, বিদেশি সহায়তার প্রস্তাব আসা স্বাভাবিক। তবে নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী বর্তমানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং তারা এ কাজে সক্ষম।
গত বুধবারের আকস্মিক বন্যায় চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুওয়া জেলাসহ নেপালের কয়েকটি এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে বিভিন্ন স্থাপনা ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ নাগরিকদের উদ্ধারে দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে নেপালে একটি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। দেশটি আরও ত্রাণ ও সহায়তা পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত দক্ষিণ কোরিয়ার নয় নাগরিকও বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশও অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানোর জন্য নেপাল সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে। কাঠমান্ডু অবশ্য আপাতত এসব বিদেশি দল গ্রহণের পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে।
বিদেশি উদ্ধারকারী দল গ্রহণে নেপালের অনীহার কারণ নিয়ে দেশটির সাবেক জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত দিনেশ ভট্টরাই বলেন, এর পেছনে রাসুওয়া জেলার ভৌগোলিক অবস্থানের বিষয়টি থাকতে পারে। এলাকাটি চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তবর্তী হওয়ায় এটি কৌশলগতভাবে স্পর্শকাতর।
তবে লোক বাহাদুর ছেত্রী এই ধারণা নাকচ করে দিয়ে বলেন, বিদেশি দল না নেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে চীনের সীমান্তবর্তী এলাকার স্পর্শকাতরতার কোনো সম্পর্ক নেই। নেপালের নিজস্ব নিরাপত্তা ও উদ্ধারকারী বাহিনীই বর্তমানে কার্যকরভাবে অভিযান চালাচ্ছে।
নেপাল সরকার অবশ্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠন ও ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তহবিল চেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
ছেত্রী জানান, ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা নেপালকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান লক্ষ্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান। নেপালের নিরাপত্তা বাহিনী এ কাজে সক্ষম। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে সরকার বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা চাইবে।’
অর্থাৎ, উদ্ধার অভিযানে বিদেশি দলকে আপাতত দূরে রাখলেও দুর্যোগ মোকাবিলা ও পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পথ পুরোপুরি বন্ধ করছে না নেপাল।