প্রকাশকালঃ ৪ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ১:৪২ সময়

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চার গ্রামবাসীর মধ্যে দফায় দফায় ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া তিন ঘণ্টাব্যাপী এই সংঘাত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে পুলিশ সদস্যসহ নারী, পুরুষ ও কিশোর মিলিয়ে উভয় পক্ষের অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মুনসুরাবাদ গ্রামের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া গ্রামের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় খাপুরা গ্রামের তিন যুবককে আখের রস খাওয়া নিয়ে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এর জেরে শুক্রবার প্রথম দফায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হন। রাতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকলেও শনিবার ভোরে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ৭টা থেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে চলে যায়। একপক্ষে মুনসুরাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা এবং অন্যপক্ষে খাপুরা, মাঝিকান্দা ও সিংগাড়িয়া এই তিন গ্রামের লোকজন অবস্থান নেয়। সংঘর্ষকারীরা ঘরবাড়ির ছাদ ও দোকানের আড়াল থেকে বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে পুরো মুনসুরাবাদ বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
ভয়াবহ এই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্যসহ উভয় পক্ষের শতাধিক সমর্থক আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, দ্বিতীয় দফায় শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।