প্রকাশকালঃ ৪ এপ্রিল ২০২৬, দুপুর ২:৪৯ সময়

রাজধানীর জনবহুল এলাকা পুরান ঢাকার কদমতলীতে একটি গ্যাসলাইট তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার দুপুরে ঘটা এই দুর্ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুনের তীব্রতা দ্রুত বৃদ্ধি পায়, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট একযোগে কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর ১টা ১১ মিনিটে কদমতলী চৌরাস্তা সংলগ্ন আল বারাকা হাসপাতালের পাশের একটি গ্যাসলাইট কারখানায় আগুন লাগার সংবাদ পাওয়া যায়। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই নিকটস্থ স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৩টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পরবর্তীতে আগুনের ভয়াবহতা এবং আশপাশে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় আরও ২টি ইউনিটকে তলব করা হয়। বর্তমানে মোট ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কারখানার ভেতরে থাকা প্লাস্টিক এবং গ্যাসলাইটের রিফিল করার দাহ্য গ্যাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নির্বাপণ কর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারাও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন। বালু ও পানি দিয়ে আগুন নেভানোর প্রাথমিক চেষ্টা চালান তারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কারখানার ভেতর থেকে বিকট শব্দ শোনা গেছে, যা মূলত ছোট ছোট গ্যাসলাইট বিস্ফোরণের কারণে হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারখানাটি আল বারাকা হাসপাতালের ঠিক পাশেই অবস্থিত হওয়ায় হাসপাতালের রোগী এবং স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। আগুনের ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য অনেককে ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। তবে হাসপাতাল ভবনটি এখন পর্যন্ত সুরক্ষিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ সম্পর্কে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য আগুন যাতে পাশের ভবনগুলোতে ছড়িয়ে না পড়ে তা নিশ্চিত করা। দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে আগুনের তীব্রতা কিছুটা বেশি। অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার ভেতরে কতজন শ্রমিক ছিলেন এবং কেউ আটকে পড়েছেন কিনা, তা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর তল্লাশি চালিয়ে নিশ্চিত করা হবে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে কারখানার ভেতরে থাকা বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল এবং তৈরি পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পুরান ঢাকার কদমতলী ও শ্যামপুর এলাকায় অনেক ছোট বড় কারখানা রয়েছে, যেগুলোর অনেকটিতেই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বলে বারবার অভিযোগ উঠেছে। আজকের এই গ্যাসলাইট কারখানার আগুনের ঘটনা আবারও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এলো। বিশেষ করে বেইলি রোডের সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডির ক্ষত শুকানোর আগেই রাজধানীর আরেকটি জনবহুল এলাকায় এমন অগ্নিকাণ্ড জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে এবং উৎসুক জনতাকে ঘটনাস্থল থেকে দূরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গ্যাসলাইট কারখানার মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনায় অগ্নিনিরাপত্তা বিধি কতটা মানা হয়েছিল, তা নিয়ে এখনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকার এত কাছে এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা থাকা সবসময়ই বিপদের কারণ। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার শেষ পর্যায়ের কাজ করছেন। উদ্ধার অভিযান ও পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য দ্রুতই জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।