প্রকাশকালঃ ২৭ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:৩৩ সময়

বাসস
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। বাংলা সাহিত্যের দ্রোহ, সাম্য, মানবতা ও প্রেমের এই কালজয়ী কবি ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতাল, বর্তমান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে আজ শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও হামদ-নাতসহ বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নজরুল ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে ‘মৃত্যুঞ্জয়ী নজরুল’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ, অর্থাৎ ১৮৯৯ সালের ২৫ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। শৈশব থেকেই দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা নজরুল পরবর্তীতে বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অসামান্য অবদান রেখে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।
মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল সাহিত্যজীবনে তিনি রচনা করেন অসংখ্য কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও সংগীত। তাঁর বিদ্রোহী চেতনা, সাম্যের বাণী এবং শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সোচ্চার সাহিত্যকর্ম বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রেম, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কবি হিসেবেও তিনি সমানভাবে সমাদৃত।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতিতে সপরিবারে কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশে আনা হয়। তাঁকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়।
এরপর ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে এবং একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে সম্মানিত করা হয়।
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি দুই দিনব্যাপী আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
‘আমারে দেবো না ভুলিতে...’ শীর্ষক এ আয়োজনে জাতীয় কবির জীবন, সাহিত্য ও সৃষ্টিকর্ম নিয়ে আলোচনা, নজরুল সংগীত এবং নৃত্য পরিবেশিত হবে।
অন্যদিকে নজরুল একাডেমি তিন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবির সমাধিতে ফাতেহা পাঠ ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। পরে বাদ জোহর সমাধিসংলগ্ন মসজিদে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
আগামীকাল ২৮ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টায় মগবাজারের বেলালাবাদ কলোনিতে অবস্থিত নজরুল একাডেমির কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ২৯ আগস্ট বিকাল সাড়ে ৫টায় একই মিলনায়তনে।
জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দেশজুড়ে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও পৃথক কর্মসূচি পালন করছে।