প্রকাশকালঃ ১০ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:২১ সময়

কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিএনটি এলাকার ইউনুসকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক-সংক্রান্ত মামলা ও গ্রেপ্তারের অভিযোগের পাশাপাশি অল্প সময়ে সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। একই সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে একটি রাজনৈতিক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনুস রাজাপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল আহমদের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েক বছর আগেও তিনি রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তবে পরবর্তী সময়ে তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে তার সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইউনুস স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। পরে রাজাপালং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি পদে তার দায়িত্ব পাওয়া নিয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৯ জানুয়ারি উখিয়া থানায় ইউনুসের বিরুদ্ধে একটি মাদক মামলা হয়। একই বছরের ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানায় মাদকসহ আটকের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় মাদকসহ আটকের তথ্যও স্থানীয়ভাবে প্রচারিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব ঘটনার পরও তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন। এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক পরিবহনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা এবং একটি মাদক নেটওয়ার্ক থাকার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
ইউনুসের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মাদক-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তার বোন রোজিনা ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর মরিচ্যা যৌথ চেকপোস্টে ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ বিজিবির হাতে আটক হয়েছিলেন।
এদিকে মাদক-সংক্রান্ত মামলা ও অভিযোগের বিষয়টি সামনে থাকার পরও কীভাবে ইউনুস রাজনৈতিক সংগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে এলেন—এ প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন মহলের অনেকে। তাদের অভিযোগ, কেউ কেউ রাজনৈতিক পরিচয়কে ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ড আড়াল করার ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারেন। তবে ইউনুসের ক্ষেত্রে এমন উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, রাজনৈতিক পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও আইনগত অবস্থান যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। তা না হলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের পদায়নের কারণে দলের সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ও জনগ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন—ইউনুসকে স্বেচ্ছাসেবক দলের পদ দেওয়ার আগে তার অতীত রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড যাচাই করা হয়েছিল কি না। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়টি কমিটি গঠনের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অল্প সময়ে তার সম্পদ বৃদ্ধির অভিযোগের বিষয়ে কোনো ধরনের অনুসন্ধান হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ইউনুসের বিরুদ্ধে থাকা মাদক মামলার তথ্য, তার সম্পদের উৎস এবং রাজনৈতিক পদ পাওয়ার প্রক্রিয়া—তিনটি বিষয়ই নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর পদায়ন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।