প্রকাশকালঃ ১০ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৩৮ সময়

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে (৩৫) আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। শনিবার তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার জন্য আদালতে নেওয়া হয়।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন ওই ঘটনায় একাই জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
এর আগে শনিবার সকালে পুলিশ সুপারের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পংকজ বড়ুয়া জানান, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সুমনের একাই ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার বিষয়টি উঠে এসেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর গামছা দিয়ে ছাত্রীর গলা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন সুমন। পরে তাঁর ব্যাগ থেকে মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। একটি পুকুরে গোসল করার পর মোবাইল ফোনটি বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গলে লুকিয়ে রেখে তিনি চট্টগ্রামে চলে যান।
পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় ওই ছাত্রীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। তবে চালক সুমন তাকে অন্যত্র নিয়ে যান। সেখানে ধর্ষণের পর ধানের জমিতে নিয়ে গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে এবং মাথা চেপে ধরে তাকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে তিনি ঘরজামাই হিসেবে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে বসবাস শুরু করেন।
অটোরিকশাটির নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিক লালমাই উপজেলার আবুল হাসেমকে শনাক্ত করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি চালক হিসেবে সুমনের নাম জানান। এরপর শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে আটক করা হয়।
পরে তাকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, সুমনের দেখানো স্থান অনুযায়ী শহরতলির বাখরাবাদ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে নিহত ছাত্রীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির অনিয়মিত ছাত্রী ছিলেন।
নিহত ছাত্রীর বাড়ি যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকায়। তাঁর বাবা আব্দুল আলীম একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে কুমিল্লা জেলায় কর্মরত। নগরীর রেসকোর্স এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন তারা।