প্রকাশকালঃ ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:০৩ সময়

নরসিংদী শহরের লাইব্রেরি পট্টিতে লাইসেন্সকৃত দেশীয় মদের দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়ার মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১টার দিকে শহরের বানিয়াছল বালুরমাঠ এলাকার একটি তিনতলা ভবনের বেজমেন্টের গ্যারেজে থাকা একটি মুরগির ঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেলা পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর সরকার (৬০) মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি নরসিংদী শহরের নিরালা আবাসিক হোটেলের মালিক।
বৃহস্পতিবার নরসিংদী মডেল থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটে লাইব্রেরি পট্টির ওই মদের দোকানে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানের কর্মচারী তানভীর আহমেদ রাব্বীর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি গুরুতর দগ্ধ হন।
রাব্বীর মা মিনু বেগম বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর রাতে নরসিংদী মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় জাহাঙ্গীর সরকার, তার ছেলে জাহিদ সরকার এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩২৬, ৩০৭ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে—ঘটনার আগে জাহাঙ্গীর সরকার ওই দোকানে গিয়ে ১০ লিটার মদ বিনামূল্যে দাবি করেন। কর্মচারীরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি জোরপূর্বক মদ নিয়ে চলে যান। পরে তার ছেলে জাহিদ সরকার সহযোগীদের নিয়ে দোকানে ফিরে তানভীরের শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে নরসিংদী মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একাধিক দল অভিযান শুরু করে। পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জাহিদ সরকারের সহযোগী কাজী তৌফিক আহমেদ পিয়াসকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার অপর প্রধান আসামি জাহিদ সরকারসহ অজ্ঞাতনামা অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
এদিকে আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ২৩ সেপ্টেম্বর নরসিংদী পৌরসভা মোড়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেটি মিছিলে রূপ নেয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর সরকার পরিচালিত নিরালা আবাসিক হোটেলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অগ্নিদগ্ধ তানভীর আহমেদ রাব্বী বর্তমানে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে নরসিংদী জেলা পুলিশ।
গ্রেপ্তার জাহাঙ্গীর সরকারকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।